
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বলাইশিমুল খেলার মাঠে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ নিয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শুরু থেকে বিরোধ চলছে। শতবর্ষের পুরোনো খেলার মাঠটি বাঁচাতে জুন মাসে মানববন্ধনও করেন এলাকাবাসী।
কিন্তু সরকারি জায়গায় মাঠটি হওয়ায় এ ব্যাপারে ছাড় দিতেও নারাজ প্রশাসন। প্রশাসনের সঙ্গে আছেন পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও। ফলে এলাকাটিতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়। এ সময় এই মাঠ নিয়ে সমস্যার সমাধানে প্রশাসনকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমরা একটি সম্পাদকীয় ছেপেছি। কিন্তু দুই মাস পার হয়ে গেলেও মাঠ ঘিরে উত্তেজনার নিরসন হয়নি; বরং আশ্রয়ণ প্রকল্পের নির্মাণাধীন ঘরে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
গত শনিবারের এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের ডাকা সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়ায় এক সাংবাদিককে মামলার হুমকি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম। একশ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার মধ্যে ইদানীং যে বেপরোয়া আচরণ লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে, একে তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচনা করতে হচ্ছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ধারণ করেছিলেন দৈনিক সংবাদ ও ইংরেজি অবজারভার-এর কেন্দুয়া উপজেলা প্রতিনিধি হুমায়ূন কবীর। সেই ভিডিওই পরে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দেন। তাতে তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন ইউএনও।
আগুন দেওয়ার ঘটনার মামলায় হুমায়ূনকে আসামি করা হবে বলে ফোনে হুমকি দেন তিনি। প্রশ্ন হচ্ছে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে তিনি যা বলেছেন, তা ফেসবুকে দেওয়া যাবে না কেন? একজন সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে তিনি স্পষ্টতই আইনবহির্ভূত কাজ করেছেন। সেই কথোপকথনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা আরও গুরুতর। তিনি বলেন, ‘আগেই তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা উচিত ছিল।’ এ ধরনের বক্তব্য ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া আর কিছু নয়। এ ধরনের মাস্তানসুলভ আচরণের বিহিত হওয়া প্রয়োজন।
এর আগে জুলাই মাসে টেকনাফের ইউএনও স্থানীয় এক সাংবাদিককে ফোন করে অশোভনীয় আচরণ করেন, যা বেশ আলোচিত হয়েছিল। সেই ঘটনায় ওই ইউএনওর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই একই ধরনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। কেন্দুয়ার ইউএনওর আচরণ সম্পর্কে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য, ইউএনওর এ ধরনের কথাবার্তা বলা উচিত হয়নি। এ ব্যাপারে তাঁকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, শুধু সতর্ক নয়, তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
খেলার মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণকাজের ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে ৬০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসককে একটি প্রতিবেদনও আদালতে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আমরা চাই খেলার মাঠটি রক্ষা পাক, আশ্রয়ণ প্রকল্পটি বিকল্প স্থানে বাস্তবায়িত হোক।