সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

বরগুনার পৌর সড়ক

দ্রুত সংস্কার করে নাগরিক ভোগান্তি কমান

দেশের সড়কগুলোর বেহাল থাকা দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিক ভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক নয়; পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার সংস্থার সড়কগুলোর ক্ষেত্রেও চিত্রটা খুব বেশি ভিন্ন নয়। কয়েক বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় এসব সড়কের অনেকগুলোই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভাগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, একই সঙ্গে অর্থনীতিরও ক্ষতি হচ্ছে।

গতকাল সোমবার প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বরগুনা পৌরসভার সড়ক অবকাঠামোর যে ভঙ্গুর চিত্র উঠে এসেছে, তা এককথায় হতাশাজনক। পৌর শহরের ১০১ কিলোমিটার পাকা সড়কের মধ্যে ২৮ কিলোমিটারই ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। অর্থাৎ শহরের মোট পাকা সড়কের প্রায় ২৮ শতাংশ বেহাল। কোনো সড়কের পিচঢালাই উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়কের অংশ ধসে পড়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অটোরিকশা, রিকশা ও ভ্যানচালকেরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

শহরের অন্তত ১৪টি পাকা সড়কের অবস্থা খারাপ। এর মধ্যে দিঘিরপাড় সড়কের প্রায় ৫০ ফুট অংশ ধসে দিঘিতে পড়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে সড়কটি এমন অবস্থায় থাকলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমতলার পাড় সড়কের প্রায় এক হাজার ফুট অংশের পিচঢালাই উঠে গেছে। চরকলোনি সড়কও প্রায় ছয় বছর ধরে ভাঙাচোরা। এসব চিত্র থেকে স্পষ্ট, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণে পৌর কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট নজর ছিল না।

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ বলছে, ২৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে প্রয়োজন ২৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে পৌর প্রশাসক জানিয়েছেন, ১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের দরপত্র হয়েছে, ঠিকাদারও চূড়ান্ত। এটি স্বস্তির খবর। তবে প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই সড়ক সংস্কারের কাজ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব সড়ক দেবে গেছে বা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, সেগুলো দ্রুত সংস্কার করতে হবে।

বেহাল সড়কের কারণে বরগুনা পৌরসভার প্রায় ৬১ হাজার নাগরিক বছরের পর বছর ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ ভোগ করছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কাজের মান যাতে বজায় থাকে, তার জন্য নিয়মিত তদারক করা প্রয়োজন।  

গ্রাম ও মফস্‌সলের সড়কগুলো দেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্কের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অবকাঠামো যত প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাবে, ততই অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়বে। শুধু বরগুনা পৌরসভা নয়, দেশের ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা সড়কগুলো দ্রুত চলাচলের উপযোগী করতে হবে।