
রাজধানীতে রোজার মাসে বঙ্গবাজারে আগুন লাগার পর নিউ সুপার মার্কেটে আগুন লাগল। বেশ কিছুদিন ধরে পত্রিকা পড়ে, ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সম্পর্কে যা জানলাম এতে করে এমন ঘটনা আরও ঘটলেও ব্যথিত হওয়া ছাড়া অবাক হওয়ার মতো অবকাশ থাকবে না।
তবে সাম্প্রতিক এ ঘটনায় একটা বিষয় খুবই উদ্বেগজনক। তা হলো ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা।
যে সব জিনিস তাদের প্রয়োজন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জনবল, প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম ও পানি। আর এ ক্ষেত্রে পানি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বঙ্গবাজারের ঘটনায় পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পুকুর থেকে। আর নিউ সুপার মার্কেটের ঘটনায় ঢাকা কলেজের পুকুর থেকে। পুকুরের ওপর তাদের নির্ভরতা টেকসই কোনো ব্যবস্থা নয়। কারণ ১৯৯৯ সালে ঢাকা শহরে জলাভূমি ছিল ১৪%, আর ২০১৯ সালে তা ৫% এ এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ২০ বছরে ৬৪% জলাভূমি হ্রাস পেয়েছে। আর এ কারণেই কিন্তু ঢাকার বাতাসে আর্দ্রতা এখন ৩০% (যা থাকার কথা ছিল ৭০-৮০%)। আর এই অল্প আর্দ্রতার কারণেই এখন দিনের তাপমাত্রা ৪০ হলেও তা শরীরে অনুভূত হয় ৪৪। প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকেই আমরা এ বিষয়ে জানতে পারছি।
তাই জলাভূমির পরিমাণ যেখানে হ্রাসমান সেখানে ফায়ার সার্ভিসের পানি দেওয়ার জন্য জলাভূমির উপর নির্ভরতা কমিয়ে ফায়ার হাইড্রেন্ট বসানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যদিও ফায়ার হাইড্রেন্ট দিতে পারে ঢাকা ওয়াসা। এদিকে আবার ঢাকা ওয়াসা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে অপরদিকে ফায়ার সার্ভিস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে।
এ বিষয়টা বলার কারণ হলো বাংলাদেশে এটিও একটি বড় সমস্যা। যেমন চট্টগ্রামে ড্রেনে পড়ে শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনায় আমরা চট্টগ্রাম ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে একে অপরকে দোষারোপ করতে দেখেছি। কারণ এখানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে। যার কারণে এদের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সমন্বয়হীনতা দেখা যায়।
আর জনবলের কথা বলতে গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশে ৫০০ মানুষের জন্য একজন ফায়ার ফাইটার থাকার কথা থাকলেও বাংলাদেশে প্রায় ১৭ কোটি মানুষের জন্য ফায়ার ফাইটার আছে মাত্র ১৩ হাজার।
১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান ২০৩১ সালে সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবে। তাই ৫০ বছর পূর্তির আগেই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে একটি সক্ষম ও অত্যাধুনিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়া সময়ের দাবি।
তাই এ সমস্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্রীয় ভাবে সমন্বয় করা উচিৎ।
না হয় ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা ঘটলে লেজে গোবরে অবস্থা দেখা ছাড়া আমাদের কিছুই করার থাকবে না।
সাকিব মাহমুদ শিমুল
শিক্ষার্থী
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়