‘মনের কথা’ বলা সেই মুখগুলো

একসময় টেলিভিশনের পর্দায় তারা শুধু পুতুল ছিল না, ছিল শিশুদের সবচেয়ে আপন বন্ধু। পারুল, বাউল, পরি, কুশ্রী ছানা, রাজা, মন্ত্রী—প্রতিটি চরিত্রের ভেতর দিয়ে বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার শিখিয়েছেন আনন্দ, কল্পনা, সৌন্দর্যবোধ আর মানবিকতার পাঠ। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার স্মরণ’ শিরোনামে স্মরণসভায় আবারও একসঙ্গে হাজির হয়েছিল সেই পরিচিত মুখগুলো। যেন দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এসে তারা আবারও বলতে চাইল, আমাদেরই ‘মনের কথা’।

পারুল—সরলতা, সাহস আর কৌতূহলে ভরা সেই ছোট্ট মেয়েটি, প্রশ্ন আর গল্পে প্রাণ পেত শিশুদের কল্পনার রঙিন জগৎ।
পারুল—সরলতা, সাহস আর কৌতূহলে ভরা সেই ছোট্ট মেয়েটি, প্রশ্ন আর গল্পে প্রাণ পেত শিশুদের কল্পনার রঙিন জগৎ।
বাউল—গানের সুরে আর সহজ কথায় জীবন, মানুষ ও মানবতার গল্প শোনাত এই পথের শিল্পী।
শিক্ষক—শাসনের চেয়ে ভালোবাসা আর আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখানোর বার্তা দিতেন তিনি।
বকর—হাস্যকর ভুল আর সহজ-সরল কথাবার্তায় গল্পে এনে দিত ভিন্ন স্বাদ।
পণ্ডিত—জ্ঞানগর্বের আড়ালে লুকিয়ে থাকা হাস্যরস আর আত্মসমালোচনার প্রতিচ্ছবি।
পরি—যার স্বপ্ন, সৌন্দর্য আর কল্পনার ডানায় ভর করে উড়িয়ে নিয়ে যেত শিশুদের।
ষাঁড়—গ্রামবাংলার শক্তি, সরলতা আর প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক হয়ে ছিল এই চরিত্র।
কুশ্রী ছানা—চেহারা নয়, মানুষকে তার মনের সৌন্দর্যেই বিচার করতে শেখাত এই পুতুল।
ড্রাগন—ভয়কে জয় করার গল্পে কল্পনার জগতে নিয়ে যেত রহস্যময় এই চরিত্র।
রাজা—ক্ষমতার আসনে থেকেও কখনো হাস্যরস, কখনো ব্যঙ্গের আয়নায় ধরা দিতেন।
মন্ত্রী—রাজদরবারের নানা কাণ্ডকারখানায় বুদ্ধি, বিভ্রান্তি আর কৌতুকের অনন্য চরিত্র।
গিট্টু—বুদ্ধি, কৌতূহল আর প্রশ্ন করার সাহস শেখাত ছোট্ট এই চরিত্র।
মেনি–বাঘা—দুষ্টুমি, হাস্যরস আর খুনসুটিতে এই জুটি শিশুদের মুখে ফুটিয়ে তুলত হাসি।
পারুল, বাউল, পরি, রাজা, মন্ত্রী, কুশ্রী ছানা আর তাদের সব সঙ্গী। তারা শুধু পুতুল নয়, বিটিভির পর্দা পেরিয়ে এক প্রজন্মের শৈশব, কল্পনা আর ‘মনের কথা’ হয়ে আজও বেঁচে আছে।