বিজুর দিনের খাবারদাবার

বিজু উৎসবের দ্বিতীয় ও প্রধান দিন হলো ‘মূল বিজু’ বা ‘মুর বিঝু’। এটিই বিজু উৎসবের মূল আকর্ষণ। চৈত্রসংক্রান্তির (৩০ চৈত্র) এই দিনটি মূলত আতিথেয়তা, সম্প্রীতি ও মিলনের এক অনন্য উদ্‌যাপন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবার ঘর থাকে উন্মুক্ত; কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়াই যে কেউ যে কারও বাড়িতে গিয়ে আনন্দ ভাগ করে নিতে পারেন। এখানে জাতি-ধর্ম, ধনী-গরিব কিংবা বয়সভেদে কোনো বিভাজন থাকে না। সবাই একত্র হয় উৎসবের উষ্ণ আবহে। এর পাশাপাশি থাকে পিঠে বা চাকমা ভাষায় পিধে। এর মধ্যে সান্যে পধে, বরা পিধে, বিনি ও কলা পিধেসহ নানা সুস্বাদু খাবার এবং ঐতিহ্যবাহী পানীয় দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করে পুরোনো বছরকে বিদায় জানানো হয়। বিজুর খাবারের নানা আয়োজন নিয়েই ছবির এ গল্প।

মূল বিজুর প্রধান আকর্ষণ ‘পাজন’ তৈরির জন্য হরেক রকমের কাটা সবজি, শিমুল ফুল, শুঁটকি একসঙ্গে সাজিয়ে রাখা হয়েছে
মূল বিজুর প্রধান আকর্ষণ ‘পাজন’ তৈরির জন্য হরেক রকমের কাটা সবজি, শিমুল ফুল, শুঁটকি একসঙ্গে সাজিয়ে রাখা হয়েছে
অতিথি আপ্যায়নের জন্য বাঁশের ঝুড়িতে যত্নে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কলাপাতায় মোড়ানো সুস্বাদু বিনি পিধে বা কলা পিধে
কলাপাতার ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘সান্যে পিধে’, যা বিজুর অন্যতম বিশেষ খাবার
বিজুর আনন্দে মেতে ওঠা মানুষের জন্য হরেক রকম পিঠা, তাজা ভুট্টা ও পানীয়ের পসরা সাজিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরা
অতিথিদের পাতে তুলে দেওয়ার জন্য ছোট ছোট বাটিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিজুর সবচেয়ে সুস্বাদু ও বিশেষ খাবার ‘পাজন’
পিঠা আর পাজনের পাশাপাশি উৎসবের আমেজ বাড়াতে লাল ঝুড়িতে রাখা হয়েছে গরম-গরম সেদ্ধ ভুট্টা
পাজনের স্বাদ বাড়াতে সংগ্রহ করে আনা বুনো তারা বা পাহাড়ি সবজির বিশাল আঁটি কাঁধে নিয়ে এক পাহাড়ির হাস্যোজ্জ্বল মুখ
বিজুর দিন অতিথিদের ক্লান্তি দূর করে সতেজতা ছড়াতে স্তূপ করে রাখা হয়েছে রসালো ও সবুজ তরমুজ
তেলেভাজা গাঢ় বাদামি রঙের ও মিষ্টি স্বাদের পাহাড়ি বিন্নি চালের ‘বরা পিধে’ বা বড়া পিঠা
বড় হাঁড়িতে নানা পদের সবজির নিখুঁত মিশ্রণে রান্না করা সেই বিখ্যাত ‘পাজন তোন’, যা ছাড়া মূল বিজু অসম্পূর্ণ