একসময় প্রায় প্রতিটি বাঙালি পরিবারের ঘরে একটি না একটি টিনের ট্রাংক ছিল। কাপড়চোপড়, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, চিঠিপত্র, পুরোনো ছবি, গয়না কিংবা সংসারের নানা মূল্যবান জিনিস যত্ন করে তুলে রাখা হতো এই ট্রাংকে। বিয়ে, পড়াশোনা, চাকরি কিংবা নতুন জীবনের যাত্রায় ট্রাংক ছিল বিশ্বস্ত সঙ্গী। সময়ের সঙ্গে স্টিলের আলমারি, ট্রলি ব্যাগ ও প্লাস্টিকের স্টোরেজ বক্সের প্রসারে কমেছে এর ব্যবহার। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে একসময়কার নিত্যপ্রয়োজনীয় এই সামগ্রী। সিলেট নগরের ঝালোপাড়া এলাকায় এখনো কয়েকটি কারখানায় টিনের ট্রাংক তৈরি হয়। ছোট-বড় আকারভেদে ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয় এসব ট্রাংক। তবে কারিগরদের ভাষ্য, আগের মতো আর চাহিদা নেই। দিনে একজন শ্রমিক গড়ে ৯টি ট্রাংক তৈরি করেন। ট্রাংকের আকার ও কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতিটির জন্য তাঁরা ৯০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পান। আধুনিকতার ভিড়ে কদর কমলেও কয়েক দশকের ঐতিহ্য বহন করে এখনো টিকে আছে টিনের ট্রাংক তৈরির এই কারুশিল্প।