
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির চলমান সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে। আগামী ১৭ জানুয়ারি বিকেল চারটায় বঙ্গভবনে দলটির নেতাদের সংলাপে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া গতকাল রোববার বিকেলে বঙ্গভবনের চিঠি পাওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব (জন বিভাগ) সম্পদ বড়ুয়ার পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ১৭ জানুয়ারি সংলাপে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ১০ জনকে বঙ্গভবনে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত যতগুলো দল সংলাপে অংশ নিয়েছে, তাদের সবাইকে ৭ বা ৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে বঙ্গভবনে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ১০ জনের প্রতিনিধিদল নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, সংলাপে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতারাও প্রতিনিধিদলে থাকবেন।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন ইসি গঠনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংলাপ শুরু করেন গত ২০ ডিসেম্বর। গতকাল বিকেল পর্যন্ত ৩২টি দলকে সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সর্বশেষ আমন্ত্রণ পেয়েছে আওয়ামী লীগ।
এখন পর্যন্ত ১৬টি রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নিয়েছে। বর্জন করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও এলডিপি—এই ৪টি দল। বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে আরও ৪টি দল—বিএনপি, জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)। গতকাল সন্ধ্যা ও রাতে বঙ্গভবনে সংলাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ ছিল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের (বিএমএল)। তবে মুসলিম লীগ নেতারা আগেই জানিয়েছেন, তাঁরা সংলাপে যাবেন না।
বিএনপিকে ১২ জানুয়ারি সংলাপে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার। ইসি গঠনের বিষয়টি নিয়ে তারা কথা বলতেই রাজি নয়। এ জন্যই বিএনপি সংলাপে যাবে না।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সরকারের সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের সংলাপের আগে ১৩ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন দলের সংলাপের সূচি নির্ধারিত আছে। মাঝখানে ফাঁকা আছে ১৪, ১৫ ও ১৬ জানুয়ারি। তবে ১৬ জানুয়ারি সংসদের নতুন বছরের অধিবেশন বসছে এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন আছে। ফলে ওই দিন আর কোনো দলকে সংলাপে ডাকার সম্ভাবনা কম। এ ছাড়া ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি অবস্থা বুঝে কোনো দলকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। তবে আওয়ামী লীগের পর আর কোনো দলকে সংলাপে ডাকার সম্ভাবনা নেই।
নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৩৯। ২০১২ ও ২০১৬ সালে নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। সর্বশেষ সংলাপে ৩১টি দল আমন্ত্রণ পেয়েছিল। এবার এখন পর্যন্ত ৩২টি দল আমন্ত্রণ পেয়েছে।
এবার যেসব দল সংলাপে অংশ নিয়েছে, তাদের প্রায় সবাই ইসি গঠনে সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ মেনে আইন প্রণয়নের দাবি করেছে। তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সম্প্রতি বলেছেন, আইন করার মতো পর্যাপ্ত সময় নেই। তাঁর এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা মনে করছেন, আবারও সার্চ কমিটির মাধ্যমেই আরেকটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হতে যাচ্ছে। অবশ্য আইনমন্ত্রী গত শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কী নির্দেশনা দেন, সে অপেক্ষায় আছেন তাঁরা।