
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে গণবিরোধী, সংবিধানবিরোধী ও বাংলাদেশবিরোধী উল্লেখ করে এই আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংগঠনটির উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ডিজিটাল আইন ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার সিপিবি নেতা মিহির ঘোষসহ সব নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিশেষ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। বরং যাঁদের নামে এই মামলা হওয়া উচিত, তাঁরা রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে গণবিরোধী, সংবিধানবিরোধী ও বাংলাদেশবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে।
গত বছরের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের কাউন্সিল বাজারের একটি কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ। একই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা করেন গিদারী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা আতাউর রহমান। দুই মামলায় সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মিহির ঘোষসহ ৬৯ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত ৩০০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
ওই দুই মামলার প্রসঙ্গ তুলে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে আমাদের সম্ভাবনাময় প্রার্থী ছাদেকুল ইসলাম মাস্টারকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা হার মেনে নিয়েছি। যিনি নির্বাচিত হয়েছেন, তিনি জোরজুলুম করে নির্বাচিত হওয়ার পর ইউনিয়ন পরিষদে যান। সেখানে তাঁর দলের লোকজন তাঁর বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করেছে। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদে নাকি ভাঙচুর হয়েছে, সেখানে নাকি বঙ্গবন্ধুর ছবি নামিয়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার সময় মিহির ঘোষ ওই এলাকায় ছিলেন না। অথচ ঘটনার পর মিহির ঘোষসহ আমাদের প্রায় এক ডজন নেতা-কর্মীর নামে ভাঙচুরের মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। সেখানকার ডিজিটাল সেন্টার ভাঙচুরের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আর বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের জন্য রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দেওয়া হয়।’
অবিলম্বে মিহির ঘোষসহ সব নেতা–কর্মীর মুক্তি দাবি করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির এই নেতা বলেন, ‘ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টিকে যাঁরা চেনেন, কেউ বলতে পারবেন না যে বাংলাদেশে আমাদের কেউ বঙ্গবন্ধুর অবমাননা করেন, ভাঙচুর বা কোনো অন্যায় কাজ করেন।’
ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাক্স্বাধীনতাবিরোধী আইন। সংগঠনের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন লাভলী হক, কাজী রাকিব হোসাইন প্রমুখ।