অনুরোধ কাদেরের

তথ্যপ্রমাণ ছাড়া অপবাদ দেবেন না

ওবায়দুল কাদের
ওবায়দুল কাদের

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের অনেকের ওপর আক্রমণ হলো কিন্তু গণমাধ্যমে দেখা গেল না। উল্টো অপপ্রচার হলো, আওয়ামী লীগকে আক্রমণকারী বলা হলো। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ছাত্রলীগ আক্রমণ করেছে, এমন খবর ছাপা হলো।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি তো বলেছি সাংবাদিকের ওপর ছাত্রলীগ আক্রমণ করেছে, এমন তথ্যপ্রমাণ পেলে আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলাপ করে এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব, আইনগত ব্যবস্থা নেব।’ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া অপবাদ না দিতে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করেন কাদের।
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৮তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ছাত্রী সমাবেশের আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
বিদেশিদের প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপি এবং তাদের উগ্র সাম্প্রদায়িক দোসররা রাজনৈতিক সন্ত্রাসে রূপ দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অপপ্রচার করে আজ সরকারের অর্জন, উন্নয়নকে যারা কালিমালিপ্ত করতে চায়, দেশের মানুষ তাদের কথা শুনছে না। তাই তারা বিদেশিদের কাছে অপপ্রচার করছে, নালিশ করছে। এর জন্য সারা দেশের ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতিসংঘের কাছে ছাত্রলীগের নামে নালিশ, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নালিশ, কানাডার কাছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নালিশ। অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কাদের বলেছেন, আন্দোলনের ডাক দিয়ে বিএনপির নেতারা কর্মীদের কাছে ফোন করে পুলিশের গতিবিধি জানতে চান। নেতারা না নামলে কর্মীরা মাঠে নামেন না।

দেশে সরকারের বিরুদ্ধে নীরব বিপ্লব ঘটবে—বিএনপির এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কবে ঘটবে? কখন ঘটবে? কারা ঘটাবে? জনগণ না বিএনপির নেতারা?’ তিনি বলেন, ‘যারা ৯ বছরে ৯ মিনিটও রাস্তায় বিক্ষোভ দেখাতে পারেনি, আন্দোলন করতে পারেনি, আন্দোলনের ডাক দিয়ে বড় বড় নেতারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে শুয়ে শুয়ে হিন্দি সিরিয়াল দেখে। নেতারা না নামলে কর্মীরা মাঠে নামে না। বিএনপির নেতারা মোবাইল ফোনে খবর নেয় পুলিশের গতিবিধি কেমন। যাদের সক্ষমতা নেই, তারা কতবার যে নীরব বিপ্লব ঘটাল।’

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দুই মাস পরই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। এত দিন পারলেন না, এখন আর কবে নীরব বিপ্লব ঘটাবেন? আন্দোলনের মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসবে না।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন এখন চোরাবালিতে আটকে গেছে। এটা এগোবে না। মানুষ এখন নির্বাচনী আমেজে। এই নির্বাচনের আমেজে আন্দোলনের ডাক কেউ শুনবে না। বিএনপির বিপ্লবের ডাক নীরব হয়ে গেছে।’

বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়, জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কার সঙ্গে সংলাপ করব? ১৫ আগস্টের হত্যাকারীদের কারা বিদেশে পাঠিয়ে দূতাবাসে চাকরি দিয়েছে? পলাশি যুদ্ধের সেই সেনাপতি ইয়ার লতিফের সঙ্গে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত সেনাপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে?’ তিনি আরও বলেন, সংলাপ করার মতো কোনো পরিবেশ বিএনপি রাখেনি। সংলাপ সংলাপ করে বারবার জাতিকে ধোঁকা দিচ্ছে বিএনপি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত কুমার দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য দেন।