নাটোরে আ.লীগ কর্মী হত্যা মামলায় বিএনপির সাত নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার

নাটোরের নলডাঙ্গায় আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির সাত নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ২০১৩ সালে লক্ষ্মণ মুন্ডা নামের আওয়ামী লীগের ওই কর্মী খুন হন।
নলডাঙ্গা থানা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর ২০-দলীয় জোটের ডাকা তিন দিনের হরতালের আগের রাতে বিএনপির কর্মীরা নলডাঙ্গার মোমিনপুর বাজার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মোমিনপুর গ্রামের আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মণ মুন্ডার বাড়ি অতিক্রমের সময় মিছিলকারীরা সেখানে অতর্কিতে হামলা চালান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তাঁরা লক্ষ্মণ মুন্ডাকে পিটিয়ে এবং তাঁর ছেলে মাতুরাম মুন্ডাকে কুপিয়ে আহত করেন। আহত লক্ষ্মণ মুন্ডাকে প্রথমে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে মাতুরাম মুন্ডা বিএনপি নেতা আতিকুল ইসলামসহ ৪৯ জনকে আসামি করে নলডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত ব্যক্তির লাশের সৎকার করায় মামলাটি তদন্তে নানা জটিলতা তৈরি হয়। অবশেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পুলিশ গতকাল নলডাঙ্গার বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোজাহার হোসেন (৫০), প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান (৪০), উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামনুর রশিদ, বিএনপির কর্মী ছোট সিঙ্গা গ্রামের নাজমুল হকের ছেলে রিপন আলী (২৮), ওই গ্রামের কছির উদ্দিনের ছেলে ফজলু উদ্দিন (৪৫), মির্জাপুরদীঘা গ্রামের জবু সরদারের ছেলে নবী সরদার (৫০) ও মোমিনপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে রফিক উদ্দিনকে (৪৪) গ্রেপ্তার করে।
নলডাঙ্গা থানার ওসি সুবীর দত্ত বিএনপি নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।