
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তারা মনে করছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দুই সিটির নির্বাচনে কোনোভাবেই হারা যাবে না। এ জন্যই দলের সব স্তরের নেতা-কর্মীদের এই নির্বাচনে মাঠে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এর অংশ হিসেবে দলের দুই জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদকে নির্বাচন সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাচন সমন্বয়ের জন্য গঠিত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জন্য গঠিত সমন্বয় কমিটির নেতৃত্ব দেবেন উপদেষ্টা পরিষদের আরেক সদস্য তোফায়েল আহমেদ।
গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠকে দুই সিটির নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকেই নির্বাচন সমন্বয়ের জন্য ওই দুটি কমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা প্রত্যেক ভোটারের ঘরে ঘরে যেতে নির্দেশনা দিয়েছেন। বড় বড় সভার চেয়ে যত বেশি সম্ভব ভোটারের কাছে পৌঁছানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। এ জন্য আওয়ামী লীগের পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে নির্বাচন সমন্বয়ের জন্য আলাদা কমিটি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা আইনজীবীদের নিয়ে কমিটি গঠন করে দুই সিটিতেই ভোটের প্রচারণায় নামবেন। এই বিষয়ে প্রস্তুতি চলছে।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিএনপি ইতিমধ্যেই ভোট নিরপেক্ষ হবে না বলে মাঠ গরম করে চলেছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়েও তারা আপত্তি জানিয়ে আসছে। ফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হলে বিএনপিসহ অন্যরা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলবেই। তাই আওয়ামী লীগ ভোটের আগেই জনমনে এমন একটা ধারণা জন্ম দিতে চায় যে তারা দুই সিটির নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এ জন্য আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো। নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের সন্দেহ দূর করতে প্রচারে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। বরং বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর তুলনায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রচার যাতে বেশি হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে।
আওয়ামী লীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ডিএসসিসির প্রার্থী নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যেই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। এ জন্য বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকনকে বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপসকে প্রার্থী করা হয়েছে। এখন প্রার্থী নিয়ে আর কোনো বিভেদ নেই। ডিএনসিসির বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলামের ব্যাপারে দলের ভেতরে ঐকমত্য ছিল আগে থেকেই। দুই সিটিতেই জয়ের বিকল্প ভাবছে না আওয়ামী লীগ।
>ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে সমাবেশের চেয়ে ঘরে ঘরে ভোট চাওয়ার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামলানোর জন্য এখনো আনুষ্ঠানিক কমিটি করা হয়নি। তবে দু-এক দিনের মধ্যে কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ডিএসসিসি নির্বাচনে আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা থাকবেন। এ কমিটির সদস্যসচিব হবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে ডিএনসিসিতে তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা থাকবেন। এই কমিটির সদস্যসচিব হবেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান।
এ বিষয়ে মাহবুব উল আলম প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ সব নির্বাচনেই গুরুত্ব দিয়ে অংশ নেয়। ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন এর ব্যতিক্রম নয়। এ জন্য দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে আওয়ামী লীগ।
গতকালের সভায় উপস্থিত নেতারা জানান, সভায় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় দলের কোনো কোনো নেতা ‘মুজিব বর্ষের’ কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানোর পরামর্শ দেন।