কক্সবাজারের সাতটি উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার ২১ জন প্রার্থী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। একজন ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড দুদিন আগে সাতটি উপজেলার জন্য আওয়ামী লীগের সাতজন নেতাকে নৌকার মাঝি ঘোষণা দিলেও তাঁদের বিরোধিতা করে দলের অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তবে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ অন্য কোনো দল থেকে কেউ মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি বলে জানা গেছে।
তৃতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য কক্সবাজারের সাতটি উপজেলা টেকনাফ, উখিয়া, কক্সবাজার সদর, রামু, মহেশখালী, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া তালিকাভুক্ত করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপের নির্বাচন হবে আগামী ২৪ মার্চ। উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ মার্চ। কক্সবাজারের আরেক উপজেলা চকরিয়ায় নির্বাচন হবে দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ।
টেকনাফ, মহেশখালী, পেকুয়া উপজেলায় মনোনয়নবঞ্চিত একাধিক প্রার্থীর সমর্থকেরা সড়কে কলাগাছ লাগিয়ে প্রার্থী পরিবর্তনের আন্দোলন করে আসছে।
টেকনাফে কলাগাছ আন্দোলন
টেকনাফে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মোহাম্মদ আলী। গতকাল তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও দলের সহসভাপতি জাফর আহমেদ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইয়াবা তালিকায় জাফর আহমেদ ও তাঁর চার ছেলের নাম থাকায় এবার তিনি দলের মনোনয়ন পাননি। এ কারণে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। কয়েক দিন ধরে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলমকে নৌকার মাঝি করার দাবিতে টেকনাফ পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে কলাগাছ লাগিয়ে আন্দোলন করছে ছাত্রলীগসহ এলাকার মানুষ। গতকাল নুরুল আলমও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তিনি এর আগে টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।
রামুতে গুরু-শিষ্যের লড়াই
রামুতে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াজ উল আলম। তিনি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। গতকাল তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল। তিনিও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন।
দলীয় সূত্র জানায়, সোহেল সরওয়ার কাজলের শিষ্য ছিলেন রিয়াজ উল আলম। পরবর্তী সময় তিনি স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলের পক্ষে গেলে গুরু-শিষ্যের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এখন সেই দ্বন্দ্ব এখন চরমে।
পেকুয়ায় চার বিদ্রোহী
এ উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। গতকাল তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন দলের আরও চারজন প্রার্থী। তাঁরা হলেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু শামা ও জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আমীর আশরাফ।
উখিয়ায় তিন চৌধুরীর লড়াই
চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী। গতকাল তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন আরও দুই চৌধুরী। একজন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী। অপরজন আবুল মনসুর চৌধুরী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।
মহেশখালীতেও তিন ‘বিদ্রোহী’
দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান হোছাইন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। গতকাল তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন আওয়ামী লীগ নেতা শরিফ বাদশা, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজেদুল করিম ও এরফান উল্লাহ।
দলের মনোনয়ন না পেয়ে কয়েক দিন ধরে এলাকায় কলাগাছ লাগিয়ে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন শরিফ বাদশার সমর্থকেরা।
কুতুবদিয়ায় নৌকা এগিয়ে
এ উপজেলায় নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি এ উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আজিজুল হক। তিনি উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বাবা আহমদ উল্লাহ কক্সবাজার জেলা পরিষদ সদস্য।
দলীয় নেতারা বলেন, এ আসনে নৌকার প্রার্থী অনেক দূর এগিয়ে। তবে বিএনপি-জামায়াতের ভোটের হিসাব যোগ করলে লড়াইটা জমতে পারে।
কক্সবাজার সদরের ভাগ্য
কক্সবাজার সদর উপজেলায় নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক। তিনি গতকাল মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন উপজেলার ঈদগাঁও এলাকার ব্যবসায়ী সেলিম আকবর। এ কারণে কায়সারুল হকের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হওয়া সম্ভব হয়নি। মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে কায়সারুল হককে নির্বাচনী লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।