বগুড়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার জঙ্গিবিরোধী সমাবেশ হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিসহ সাত সাংসদ যোগ দেননি। বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে জঙ্গিবিরোধী জনমত তৈরিতে মসজিদের ইমাম ও খতিবদের নিয়ে ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ইসলামের আহ্বান’ শীর্ষক এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথভাবে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রায় এক হাজার ইমাম ও খতিব অংশ নেন। সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরুর কথা ছিল, কিন্তু প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের জন্য অপেক্ষা করে সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন প্রধান অতিথির আসনে বসেন। সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক আজমল হক। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বসেন বিশেষ অতিথির আসনে।
একজন ইমাম বলেন, এই মুহূর্তে জঙ্গিবাদ রাষ্ট্রের জন্য রীতিমতো হুমকি। গুলশান হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিহত দুই জঙ্গি খায়রুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলামের বাড়ি এই বগুড়াতেই। গোয়েন্দাদের তথ্যানুযায়ী, এই জেলার বিপথগামী বেশ কিছু তরুণ দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। এঁরা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অনেকেরই ধারণা। যত জরুরি কাজই থাকুক না কেন, এ সমাবেশে সাংসদের উপস্থিত থাকাটা জরুরি ছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জয়পুরহাট-২ আসনের সাংসদ আবু সাঈদ আল মাহমুদের নাম ছাপানো হয়। কিন্তু অনুষ্ঠানের মাত্র এক দিন আগে গত বুধবার মুঠোফোনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
জানতে চাইলে সাংসদ আবু সাঈদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘হুট করে কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেও ঢাকা থেকে গিয়ে যোগদান করাটা আমার জন্য একটু কঠিন। দলীয় ব্যস্ততার কারণে যেতে পারিনি।’
একইভাবে শেষ মুহূর্তে মুঠোফোনে বগুড়ার ছয়জন সাংসদকেও বিশেষ অতিথির আমন্ত্রণ জানানো হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক আজমল হক বলেন, ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেই সাংসদ আবু সাঈদকে প্রধান অতিথি করা হয়। আয়োজক হিসেবে বুধবার তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগও করেছিলাম। আর স্থানীয় ছয়জন সাংসদকেও মুঠোফোনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেছিলাম। কেউ কেউ উপস্থিত থাকতেও চেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কেউ অনুষ্ঠানে আসেননি।’
বগুড়া সদরের সাংসদ ও বিরোধীদলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আগে থেকে জানালে অবশ্যই এ সমাবেশে থাকার চেষ্টা করতাম। বুধবার আয়োজকেরা ফোন করে আমন্ত্রণ জানান। তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি।’
জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন বলেন, অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্ব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের। তারা সাংসদদের কীভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে।
সমাবেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে রাজধানীর মিরপুরের জামেয়া মোহাম্মদীয়ার শায়খুল হাদিস ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গবেষক মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্যামান, বগুড়ার পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়ফুজ্জামান ফারুকী, বগুড়ার বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল কাদের, মহাস্থান মাজার জামে মসজিদের খতিব এমদাদুল হক, আদমদীঘি উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম আল হেলাল জামালী প্রমুখ বক্তব্য দেন।