পাবনা–১ ও ২ আসন

ভোটের মাঠ ফাঁকা রেখে ঢাকায় তাঁরা

শামসুল হক টুকু
শামসুল হক টুকু

৮ নভেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল। এর পর থেকে ১৫ দিন ধরে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ভোটের মাঠ পুরোপুরি ফাঁকা পড়ে আছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ঢাকায় দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য হত্যে দিয়ে পড়ে থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে মনানয়ন জোটে, তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন নির্বাচনী এলাকায় থাকা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সমর্থকেরা।

পাবনা-১ আসনটি সাঁথিয়া উপজেলার পুরোটা এবং বেড়া উপজেলার বেড়া পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আর পাবনা-২ আসনটি সুজানগর উপজেলার পুরো অংশ এবং বেড়া উপজেলার বাকি পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। পাবনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইছেন মোট ছয়জন। তবে তাঁদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান সাংসদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং সাবেক সাংসদ ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কমপক্ষে আটজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় নেতা ইউনুছ আলী, সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুব মোর্শেদ প্রমুখ।

পাবনা-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইছেন অন্তত ১৫ জন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন বর্তমান সাংসদ খন্দকার আজিজুল হক আরজু, কৃষক লীগের নেতা মির্জা আবদুল জলিল, সাবেক সচিব মুজিবর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ কবির, শফিউল আলম বাদশা, জাহাঙ্গীর কবীর প্রমুখ। তবে তাঁদের মধ্যে বেশি আলোচনা চলছে আজিজুল হক আরজু ও ফিরোজ কবিরকে নিয়ে। অন্যদিকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছয়জন। তাঁদের মধ্যে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক সাংসদ সেলিম রেজা হাবিব ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসান জাফির তুহিন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সমর্থকদের নিয়ে ঢাকায় চলে যান। সেই থেকে তাঁরা এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন।

এদিকে দুই দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার পর্যন্তও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে দুই আসনের কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশীই নিশ্চিত হতে পারেননি। এই অবস্থায় মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকেরা সময় কাটাচ্ছেন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। ঢাকায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী শামসুল হক ও আবু সাইয়িদের সঙ্গে আলাদাভাবে মুঠোফোনে কথা হলে তাঁরা জানান, দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে নেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। তিনি (নেত্রী) যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা–ই তাঁরা মেনে নেবেন।

অন্যদিকে পাবনা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ইউনুছ আলী জানান, ঢাকায় থেকে তিনি দলীয় মনোনয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত তিনিই মনোনয়ন পাবেন বলে তাঁর দৃঢ়বিশ্বাস।

>তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি দুই দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরাই ঢাকায় ।

এদিকে পাবনা-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই চলছে উত্তেজনা ও উন্মাদনা। তফসিল ঘোষণার আগে এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কর্মী-সমর্থকেরা সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগে নির্বাচনী মাঠ সরগরম করে রাখলেও এখন তাঁরা একেবারেই চুপচাপ। চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে তাঁরা অপেক্ষা করছেন দলীয় মনোনয়ন কার ভাগ্যে জোটে তা দেখার জন্য।

এই আসনে আওয়ামী লীগের খন্দকার আজিজুল হক আরজু ও ফিরোজ কবির এবং বিএনপির হাসান জাফির তুহিন ও সেলিম রেজা হাবিবের সমর্থকদের মধ্যেই উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।

বর্তমান সাংসদ খন্দকার আজিজুল হক বলেন, ‘তৃণমূল আমার পক্ষে, জনগণ আমার পক্ষে। এলাকার আমি যথেষ্ট উন্নয়ন করেছি। কাজেই মনোনয়ন আমি পাব বলে আশা করছি। আমাকে মনোনয়ন না দেওয়া হলে তা হবে আমার জন্য অবিচার।’

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হাসান জাফিরের সমর্থক জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এ বি এম তৌফিক হাসান বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর থেকেই আমরা ঢাকায়। আশা করছি কেন্দ্র থেকে হাসান জাফিরের পক্ষেই মনোনয়ন নিয়ে আমরা এলাকায় ফিরতে পারব।’