জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিচ্ছেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী।
এই যোগদান উপলক্ষে আজ রোববার বেলা দেড়টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।
এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা ও সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, আপ বাংলাদেশের প্রধান উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক দুই সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত এনসিপিতে যোগ দেবেন। আরও যোগ দেবেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আবদুল হক।
এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, লিগ্যাল সেলের সম্পাদক মাহফুজ, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইটসহ বিভিন্ন ইউনিটের একদল নেতা-কর্মী আজ এনসিপি ও দলটির সহযোগী সংগঠনে যোগ দিচ্ছেন।
রিফাত রশিদ জাতীয় যুবশক্তি, হাসিব আল ইসলাম জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং শাহাদাত হোসেন ও এস এম সুইট এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগ দিচ্ছেন বলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে।
এনসিপির ওই কেন্দ্রীয় নেতা আরও জানান, আজ কয়েকজন এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। ধাপে ধাপে আরও অনেকে যুক্ত হবেন।
জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনসিপি বড় দল হতে চায়। এর জন্য অনেককেই অ্যাকমোডেট করতে হবে। যাঁরা বাংলাদেশপন্থা ও সংস্কারের পক্ষে আছেন, তাঁদের জন্য এনসিপির দরজা খোলা রয়েছে।’
আপ বাংলাদেশ থেকে জুনায়েদ–রাফে
জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত। দুজনই সক্রিয় ছিলেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে।
গণ–অভ্যুত্থানের পর এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠিত হলে জুনায়েদ-রাফেসহ সাবেক শিবির নেতাদের একটি অংশ সেখানে যোগ দেন।
এরপর জাতীয় নাগরিক কমিটি আর গণ–অভ্যুত্থানের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এনসিপি গঠনের আলোচনা শুরু হয়। তখন আলোচনা ছিল, জুনায়েদ ও রাফে নতুন দলের সামনের সারিতে থাকতে পারেন।
ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা জুনায়েদ ও রাফে শেষ পর্যন্ত এনসিপিতে যোগ দেননি। এনসিপি আত্মপ্রকাশের পর গত বছরের ১৬ মার্চ ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের ঘোষণা দেন তাঁরা।
একই বছরের ৯ মে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আপ বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। আহ্বায়ক হন জুনায়েদ। রাফে প্রধান সমন্বয়কারীর পদ পান।
আপ বাংলাদেশ রাজনীতিতে যেভাবে জায়গা করে নেবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, গত এক বছরে তা হয়নি। সম্প্রতি আপ বাংলাদেশ ভাঙনের মুখে পড়ে।
প্ল্যাটফর্মটির প্রধান সংগঠক নাঈম আহমেদের উদ্যোগে ৩ এপ্রিল জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি) নামে নতুন একটি দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ পরিস্থিতিতে আপ বাংলাদেশের প্রধান উদ্যোক্তাদের দুজন জুনায়েদ ও রাফে এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন।
জুনায়েদ এনসিপিতে যোগদানের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। রাফের এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আপ বাংলাদেশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পরে যোগ দিতে পারেন ইসহাক
ছাত্রদল ও যুবদল—দুই সংগঠনেই সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন ইসহাক সরকার। আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। রাজধানীর বংশাল ও কোতোয়ালি থানার পৃথক দুটি নাশকতার মামলায় তাঁকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের নভেম্বরে সেই দুটি মামলায় তাঁকে খালাস দেন আদালত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন ইসহাক। কিন্তু পাননি। ফুটবল প্রতীকে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হন তিনি। সংসদ নির্বাচনের সপ্তাহখানেক আগে ইসহাককে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
জানা গেছে, ইসহাক এনসিপিতে যোগ দেবেন, তবে আজ নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসহাক আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এনসিপিতে যোগ দিতে পারি। এ ব্যাপারে আলোচনা চলছে।’