৪৬ আসনে বিদ্রোহীদের চাপে বিএনপি ও মিত্ররা

সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৯টি আসনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দলটির নেতারা স্বতন্ত্র বা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। এর মধ্যে অন্তত ৪৬টি আসনে শক্ত অবস্থানে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। তাঁদের কারণে ভোটের মাঠে বাড়তি চাপে পড়েছেন বিএনপির ধানের শীষ বা সমঝোতার প্রার্থীরা।

স্থানীয় নেতা-কর্মী ও ভোটাররা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে অনেক আসনে বিদ্রোহীদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি অনেক আসনে বিএনপির ভোট কাটাকাটির কারণে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।

১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আছেন ২৯১টি আসনে। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা দলগুলোকে আটটি আসনে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। এখানে বিএনপি–সমর্থিত অন্য দলের প্রার্থী আছেন। আর একটি আসনে (কুমিল্লা-৪) প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বিএনপির দলীয় প্রার্থী নেই।

স্থানীয় নেতা-কর্মী ও ভোটাররা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে অনেক আসনে বিদ্রোহীদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি অনেক আসনে বিএনপির ভোট কাটাকাটির কারণে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।

শুরুতে ১১৭ আসনে বিএনপির ১৯০ জনের মতো দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া ঠেকাতে বিএনপি অনেকের সঙ্গে আলোচনা করে। আবার অনেকের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারও কারও মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। অনেকে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনুরোধে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৭৯টি আসনে অন্তত ৯২ জন বিএনপির নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। কোনো কোনো আসনে বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। আবার কোথাও কোথাও এক ব্যক্তি একাধিক আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় অনেককে ইতিমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। অনেক জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় স্থানীয় কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবু বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠ ছাড়েননি। দলের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে ভোটের প্রচার চালাচ্ছেন। আবার কোথাও কোথাও মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের কেউ কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী না হলেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নামছেন না।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা। নির্বাচনের ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের কারণে বিএনপির কতটি আসন হাতছাড়া হয়, সেটি দেখার বিষয়।

প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে দল থেকে। সমন্বিত প্রয়াসে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
মাহদী আমিন, বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন প্রথম আলোকে বলেন, বিগত আন্দোলন–সংগ্রামে দলের অনেকে ভূমিকা রেখেছেন। এমন অনেক নেতা রয়েছেন, যাঁরা মনে করেছিলেন হয়তো মনোনয়ন পাওয়া তাঁদের দলের প্রতি যে ভূমিকা তার একটি স্বীকৃতি হবে। কিন্তু একটি আসনে একজনের বেশি কাউকে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে হয়তো তাঁরা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বা অপ্রাপ্তির কারণে হয়তো স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করতে চাইছেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে দল থেকে। সমন্বিত প্রয়াসে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’

যেখানে চাপে ধানের শীষ

বাগেরহাট জেলার চারটি আসনের সব কটিতেই আছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে বাগেরহাট ১, ২ ও ৩—এই তিন আসনে প্রার্থী হয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিলভার লাইন গ্রুপের কর্ণধার এম এ এইচ সেলিম। অবশ্য বর্তমানে বিএনপিতে তাঁর কোনো পদ নেই।

বাগেরহাট-১ আসনে সেলিমের পাশাপাশি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য শেখ মাছুদ রানাও প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় সম্প্রতি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। আর বাগেরহাট-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় সম্প্রতি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থীরা সবাই মাঠের প্রচারে সক্রিয় আছেন। বাগেরহাট-১, ২, ৩—এই তিন আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে বিএনপি থেকে যাঁরা মনোনয়ন পেয়েছেন, তাঁদের মানুষ চেনেই না। তাঁরা কেউই জামায়াতের সামনে পাস করতে পারবেন না। কাজেই আমি বিএনপির সিট রক্ষার জন্য, বিএনপির স্বার্থেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। যাতে আমাদের বিএনপির সিটগুলো না কমে। জিততে পারলে তা–ও তো দলকে আমি বলতে পারব, এই তিনটা সিট রক্ষা করছি দলের জন্য।’

অবশ্য বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অনেকে বলছেন, একাধিক দলীয় নেতা প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির ভোট ভাগাভাগি হবে। এতে অন্য দলের প্রার্থীরা সুবিধা পেতে পারেন। বিএনপির দলীয় প্রার্থীরাও বিষয়টি অস্বীকার করছেন না।

নির্বাচন আরও ঘনিয়ে এলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান দুর্বল হবে। কারণ, অনেক ভোটারের মধ্যে একটা প্রবণতা আছে, কোন দল জয়ী হতে যাচ্ছে, সেটা দেখে অনেকে ভোট দেন।
জাহেদ উর রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

ধানের শীষের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী চ্যালেঞ্জ তৈরি করবেন কি না—এমন প্রশ্নে বাগেরহাট-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী এখানে ‍যিনি আছেন, ধানের শীষের জন্য কিছুটা ক্ষতিকর তো অবশ্যই। কারণ, তিনি নিজেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন। যদিও দলে তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদও নেই।

বিএনপির প্রার্থীর দাবি, তাঁর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অনেক বহিরাগত মানুষ এনে সন্ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তবে বিএনপির পরীক্ষিত নেতা–কর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।

ঢাকা–১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। তবে তাঁর সঙ্গে মাঠে এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এস এ সিদ্দিক সাজু। তাঁর বাবা এস এ খালেক ওই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য। সে কারণে পারিবারিকভাবে এই পরিবারের একটা প্রভাব ওই আসনে রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এ কারণে কিছুটা চাপে আছেন ধানের শীষের প্রার্থী সানজিদা। এই আসনে জামায়াত প্রার্থী করেছে দীর্ঘদিন গুমের শিকার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে। তিনিও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

ঢাকা–১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। তবে তাঁর সঙ্গে মাঠে এখন পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এস এ সিদ্দিক সাজু। তাঁর বাবা এস এ খালেক ওই এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য। সে কারণে পারিবারিকভাবে এই পরিবারের একটা প্রভাব ওই আসনে রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

কুমিল্লা-২ আসনে (হোমনা-তিতাস) বিএনপির প্রার্থী সেলিম ভূঁইয়া। এখানে বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার এক সময়ের এপিএস-২ মো. আবদুল মতিন খান। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। তবে তিনি এখনো মাঠে সরব। বিএনপির পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা মতিনের পক্ষে মাঠে সক্রিয়। এর মধ্যে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। হোমনা উপজেলার আসাদপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ভোটাররা মনে করছেন বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াই হবে ভোটে।

এর বাইরে দিনাজপুর-২ ও ৫, পাবনা-৩, সিলেট-৫, নারায়ণগঞ্জ-২, ৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, হবিগঞ্জ-১, কিশোরগঞ্জ-১, টাঙ্গাইল-৩ ও ৫, সুনামগঞ্জ-৩, পঞ্চগড়-২, গোপালগঞ্জ-২, বরিশাল-১, নড়াইল-১, ঝিনাইদহ-৪, নওগাঁ-১, ৩ ও ৬, পার্বত্য খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা-৩, চট্টগ্রাম-১৬, রংপুর-৩, মুন্সিগঞ্জ-১, রাজবাড়ী-২, মানিকগঞ্জ-১, যশোর-৫, নোয়াখালী-২, চাঁদপুর–৪, মাদারীপুর-১ এবং ময়মনসিংহ-১, ২, ৬, ৭ ও ৯ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

জোটের প্রার্থীরাও চাপে

এবারের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের ঘোষণা না দিলেও যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে বিএনপি। আটটি আসনে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আসন ছেড়েছে বিএনপি। তাঁদের বিএনপি সমর্থন দিয়েছে। তবে এর মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির নেতারা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

নির্বাচনী সমঝোতায় ঢাকা-১২ আসন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এই আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কোদাল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম (নীরব)। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি তাঁকে বহিষ্কার করেছে। তিনি নির্বাচনে থাকায় এই আসনে বিএনপি–সমর্থিত প্রার্থী চাপে আছেন বলে মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপির সমঝোতার প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। এই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন। গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তাঁর সঙ্গে আছে। এমন প্রেক্ষাপটে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নুরের বিপক্ষে কাজ করায় গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির দুটি কমিটি বিলুপ্ত এবং দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী তানজির আহমেদ রিজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অবশ্য নুরুল হক নুরের সঙ্গে বিএনপির একটি অংশ কাজ করছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাসান মামুন ও নুরুল হকের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বেশ কয়েকবার হামলা-সংঘর্ষ হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনে বিএনপির সমঝোতার প্রার্থী হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলটির সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি এস এন তরুণ দে। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপির মাঠপর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। এ জন্য দলের শাহজাদাপুর ইউনিয়নের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া শাহবাজপুর ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ ছয় নেতাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া আশুগঞ্জ উপজেলা থেকেও রুমিন ফারহানার অনুসারী অনেক নেতা-কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে রুমিন ফারহানার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ–৪ আসনেও বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে চাপে আছেন দলটির সমঝোতার প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মনির হোসেন কাসেমী। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সর্বশেষ তিনটি নির্বাচন প্রকৃত নির্বাচন না হওয়ায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা বেশি হবে, এটা অনুমেয় ছিল। কিন্তু ৭৯টি আসনে বিএনপির ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী থাকাটা বিস্ময়কর। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা।

তবে জাহেদ উর রহমান বলেন, নির্বাচন আরও ঘনিয়ে এলে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান দুর্বল হবে। কারণ, অনেক ভোটারের মধ্যে একটা প্রবণতা আছে, কোন দল জয়ী হতে যাচ্ছে, সেটা দেখে অনেকে ভোট দেন। তিনি আরও বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় বিরাগভাজন হয়ে থাকেন, এমন প্রার্থী জয়ী হলে এলাকার উন্নয়ন হয় না—এমনটাও অনেকে বিবেচনা করে থাকেন।

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন প্রথম আলোর সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিরা]