‘ফ্যাসিস্টের লোকেরা’ যাতে ই–জিপিতে (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) আসতে না পারে, সে জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানতে চেয়েছেন বিএনপির একজন সংসদ সদস্য। এর জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেছেন, এ–সংক্রান্ত আইন পর্যালোচনা করা হবে।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ও কেনাকাটার জন্য অনলাইনে দরপত্র আহ্বান ও জমা দেওয়ার যে পদ্ধতি, সেটি ই-জিপি নামে পরিচিত। স্বচ্ছতা, সময় সাশ্রয় এবং দুর্নীতি কমানোর লক্ষ্যে ই-জিপি চালু হয়।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশের ওপর আলোচনা শেষে বিএনপির সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বলেন, ফ্যাসিস্টের লোক যখন ই–জিপিতে অংশ নেয়, তখন তারা সহজে কাজ পেয়ে যায়। কারণ, ফ্যাসিস্ট আমলে অনেক কাজ করায় তাদের ‘প্রোফাইল খুব স্ট্রং’।
এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘কিন্তু অন্যান্য ঠিকাদার, যারা আমাদের দলের বা ফ্যাসিস্টের পরে আমরা যারা এসেছি বা আমাদের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রকৌশলী বা কোম্পানিরা তাদের সঙ্গে পারে না। তারা পর্দার আড়ালে থেকে কাজগুলো পেয়ে যায়। সেগুলো তিন-চার ধাপে বিক্রি করার পরে স্থানীয় লোকদের কাছে আসে। কিন্তু সেখানে অযোগ্য লোকদের কাছে যাচ্ছে। লাভের আশায় তারা নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করছে।’
ফ্যাসিস্টরা যাতে এই প্রক্রিয়ায় আসতে না পারে, সে জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা জানতে চান সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন।
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা অবগত আছি এবং আমরা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। আমরা এই আইনটার কীভাবে রিভিউ করে সঠিক লোকেরা যেন...সেটা আমরা বিবেচনা করব।’
এর আগে আশরাফ উদ্দিন তাঁর নোটিশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন কাজের গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের চেয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় স্থানীয় এলাকার কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেওয়া হয়। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গ্রামীণ সড়ক–সেতু–কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ এলজিডির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই টেন্ডার এবং কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে।
মাঠ উদ্ধারের দাবি
ঢাকার দুই সিটি এলাকাসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরের খেলার মাঠ–পার্ক উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী। সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশে এই দাবি জানান তিনি।
নিলোফার চৌধুরী বলেন, পার্ক ও খেলার মাঠগুলো একসময় শিশু–কিশোরদের খেলাধুলার জায়গা ছিল। এসব পার্ক–মাঠ বয়স্কদের বিকেলে অবসরের জায়গা। এখন এসব জায়গায় মাদকের কারবার হয়, হকারের উৎপাত আর বখাটেদের আড্ডা চলে। কোথাও দখল, আবার কোথাও শিশুপার্কের নামে বাণিজ্যিক ব্যবহার হচ্ছে। পার্ক ও খেলার মাঠগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ নয়।
এই সংসদ সদস্য বলেন, ঢাকা শহরের খেলার মাঠ অনেকটা কাজির গরু খাতায় আছে, গোয়ালে নেই। দখলকৃত মাঠে নানা স্থাপনা, ক্লাব, মার্কেট এমনকি হাটবাজার পর্যন্ত গড়ে উঠেছে।
এই নোটিশের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে মাঠ এবং ফাঁকা জায়গাগুলোকে দলীয় কারণে দখল করে নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি সরকার গঠন করার পর সেগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা করছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন অধিকাংশ পার্ক, খেলার মাঠ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে প্রায় বেদখল ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পার্ক বা খেলার মাঠ নিজেদের দখলে নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সংস্থার মালিকানাধীন ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে। এসব পার্ক–মাঠ পর্যায়ক্রমে খেলার উপযোগী করে গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে।