
‘কার্টুন প্রচারের জন্য, লেখার জন্য আর কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। সরকারের সমালোচনা হবে, তারেক রহমানের নাম ধরেই হবে। কড়া ভাষায় সরকারের সমালোচনা করব। যদি সরকারের সাহস থাকে আমাদেরকে গ্রেপ্তার করে দেখাক। যদি গ্রেপ্তার হই, তাহলে দিনে দিনে বহু দেনা বাড়বে। সেই দেনা একদিন বাংলাদেশের মানুষ আদায় করে নেবে।’
আজ রোববার বিকেলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জাহিদ আহসান বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম শেখ মুজিবের মেয়ে (শেখ হাসিনা) আর শহীদ জিয়ার ছেলে (তারেক রহমান) মনে হয় আর এক হবে না। আমরা চেয়েছিলাম, আমরা তাদের এক পাল্লায় মাপব না। কিন্তু আমরা দেখলাম, যেই পথে শেখ মুজিবের মেয়ে হেঁটেছিল, সেই পথে হাঁটার বন্দোবস্ত করছে শহীদ জিয়ার ছেলে।’
অ্যাকটিভিস্ট এ এম হাসান নাসিমের মুক্তির দাবি জানিয়ে ছাত্রশক্তির এই সভাপতি বলেন, ‘তারেক রহমান ফেসবুকে এসে বলছেন যে কার্টুন প্রচার করেন, আমার বিপক্ষে হলেও করেন। কিন্তু যেই কার্টুনে কোনো রকমের মানহানি নাই, যেই কার্টুনে ব্যঙ্গ করা হয়েছে; তার জন্য চিফ হুইপ নিজের লোকদের দিয়ে মামলা করিয়ে হাসান নাসিমকে গ্রেপ্তার করিয়েছেন। কার্টুন প্রচারের জন্য, লেখার জন্য আর কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না।’
জ্বালানিসংকট প্রসঙ্গ তুলে জাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে তেলের এক কৃত্রিম সংকট দেখানো হলো। তেল মজুত থাকার পরও সরকার এত দিন ধরে নাটক করেছে তেল নেই। নাটক করে বাংলাদেশের মানুষকে কষ্ট দেওয়ার এক বিশাল খেলা খেলছে তারেক রহমানের সরকার।
সমাবেশে ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বিএনপির উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা গণতান্ত্রিক সরকার, যেভাবেই হোক আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। আপনাদের কাছে জনগণের যে ম্যান্ডেট আছে, সেই ম্যান্ডেটকে আমরা সম্মান করি। এ জন্য আপনাদেরকে আমরা বারবার সতর্ক করছি। আপনারা যেই পথে হাঁটছেন, সেই পথের শেষ পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো।’
তাহমিদ আল মুদ্দাসসির বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে যখন উত্তর চেয়েছি, প্রশাসন বলেছে যে তাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ তেল মজুত আছে। তাহলে কথা হচ্ছে, তেলের যদি মজুত যথেষ্ট থাকে, তাহলে এই তেলের দাম বাড়ল কেন?’
সমাবেশে ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ পাব, যেখানে মানুষ স্বস্তিতে বসবাস করবে, সুশৃঙ্খলভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখতে পাচ্ছি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংকটের মুখে এই জাতিকে পড়তে হয়েছে। এর সম্পূর্ণ দায়ভার বিএনপি সরকারকে নিতে হবে। এর সম্পূর্ণ দায়ভার তারেক রহমানের সরকারকে নিতে হবে।’