
চট্টগ্রামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যে পদ্ধতিতে চাঁদাবাজি ও হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রামের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গাজী আতাউর রহমান বলেন, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ থমকে আছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নিরাপত্তার অভাব। এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস হতে চলল, অথচ এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি করতে পারেনি। বরং একের পর এক বিভীষিকাময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খবর সামনে আসছে।
বিবৃতিতে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘দেশি-বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার হুমকি দেওয়া এবং পূর্বঘোষণা দিয়ে হামলা করার ঘটনা কোনো সাধারণ রাষ্ট্রে ঘটা সম্ভব নয়। যে রাষ্ট্রে সরকার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে, সেখানে যুদ্ধাবস্থাতেও এমনটা হওয়া অসম্ভব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে চট্টগ্রামে ঠিক তা-ই ঘটেছে।’
সরকারের সমালোচনা করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন। অথচ একজন আইনমন্ত্রী আছেন। সালাহউদ্দিন আহমদকে যদি আইন ব্যাখ্যা করতেই বেশি প্রয়োজন হয়, তবে তাঁকেই আইনমন্ত্রী করা হোক। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হোক। কারণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি রাষ্ট্রকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে উপস্থাপন করছে।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, বিপুল ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস পরও যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে না পারে বা বাহিনীকে সক্রিয় করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা সরকারের সামগ্রিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।