
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শত অত্যাচার সহ্য করেও দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে মির্জা আব্বাস এ কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, তাঁর ওপর যে অত্যাচার হয়েছিল, মানুষের দিকে তাকিয়ে তিনি তা সহ্য করে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আজকে গণতন্ত্রের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। কিন্তু তিনি সেই গণতন্ত্র দেখে যেতে পারলেন না।
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার পেছনে খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য বলে উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিগত সময়ে খালেদা জিয়াকে এমন কিছু করা হয়েছে, যাতে তিনি দ্রুত সময়ে পৃথিবী ত্যাগ করেন।
অশ্রুসিক্ত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন অসংখ্য মানুষ। তাঁরা প্রার্থনা করছেন, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী যেন কবরে শান্তিতে থাকেন।
আজ জুমার নামাজের পরে জিয়া উদ্যানে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে কেউ বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক; কেউবা খালেদা জিয়াকে পছন্দ করেন বলে তাঁর কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁরা এসেছেন।
ভোলা জেলার লালমোহন থেকে এসেছেন ৬২ বছর বয়সী আবুল কালাম। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসেন। আজও এসেছেন। তিনি বলেন, নেত্রীর জানাজায় আসতে পারেননি। তাই কবর জিয়ারত করতে এসেছেন। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করতে এসেছেন। এমন নেত্রী বাংলাদেশে আর হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বেলা পৌনে তিনটার দিকে কবর জিয়ারত করতে আসেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মো. মামুনুল হক। কবর জিয়ারতের শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
মামুনুল হক বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের আপসহীন নেত্রী। তাঁরা নেত্রীর জন্য দোয়া করতে এসেছেন। এ সময় দেশবাসীকেও খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
কবর জিয়ারত করতে এসে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পুরো জীবনে দেশের স্বার্থরক্ষায় কাজ করেছেন। আমরা তাঁর জন্য দোয়া করতে এসেছি। তাঁর নীতি ও আদর্শ ধারণ করে আগামী দিনে দেশ ও গণতন্ত্র এগিয়ে যাবে—এটাই প্রত্যাশা।’