
রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে বামপন্থী ৯টি দলের জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় ঢাকায় জোটের মনোনীত সাতজন প্রার্থীসহ নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-৮ আসনে ত্রিদীব সাহা, ঢাকা-৯ আসনে মনিরুজ্জামান মিলন, ঢাকা-১২ আসনে কল্লোল বণিক, ঢাকা-১৫ আসনে সাজেদুল হক রুবেল, ঢাকা-৫ আসনে টি এইচ মোস্তফা দীপু, ঢাকা-১৪ আসনে রিয়াজ উদ্দিন এবং ঢাকা-৪ আসনে ফিরোজ আলম মামুন।
এ সময় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘সরকারি আইন ও ইলেকশন কমিশনের বিধান অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকার শহীদ মিনারে শপথ নিয়ে প্রকাশ্য নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ শহীদ মিনারকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও সব গণসংগ্রামের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতীক।’
সিপিবির সাবেক সভাপতি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নভেম্বরের শেষে গঠিত হয়েছে এবং এর গঠনপ্রক্রিয়া এখনো চলমান। বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ জাসদসহ আরও কিছু দল এতে সম্পৃক্ত রয়েছে। আমরা শুধু ভোট চাইতে আসিনি, বরং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে বামপন্থী, প্রগতিশীল, উদার গণতান্ত্রিক শক্তির সমন্বয়ে সরকার প্রতিষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হয়েছি।’
সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ব্যবস্থা বদল না হলে মানুষের ভাগ্য বদলানো যাবে না। দেড় বছরের শাসনে পুরোনো ব্যবস্থা বহাল থাকার কারণেই ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস বন্ধ হয়নি এবং নির্বাচন নিয়েও খেলা শেষ হয়নি।
সরকারের প্রস্তাবিত ‘হ্যাঁ’ ‘না’ গণভোটকে অপ্রয়োজনীয় ও প্রতারণামূলক আখ্যা দিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘এতে জনগণকে মিথ্যাচারের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে। সংস্কার করতে হলে তা জনগণের শক্তির ওপর দাঁড়িয়ে করতে হবে এবং সেই কাজ নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই পার্লামেন্টে গিয়ে করবেন।’
প্রবীণ এই বামপন্থী নেতা বলেন, এই নির্বাচন বৃহত্তর সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামের একটি অংশ, যে সমাজের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ, এরশাদবিরোধী আন্দোলন ও ২৪-এর গণ–অভ্যুত্থানের সময়। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনভাবে বিবেক ও বিবেচনা অনুযায়ী নির্বাচনী সংগ্রামে অংশ নিতে হবে।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন (প্রিন্স), বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, সিপিবির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য শহীদুল ইসলাম সবুজ, সমাজতান্ত্রিক পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল সিকদার প্রমুখ।