
সিলেট শহরের জেলখানা মোড় এলাকার একটি কাপড়ের দোকানের মালিক সেলিনা আক্তার। ভোটের হালচাল কী জানতে চাইলে নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের এই ভোটার বলেন, ধানের শীষ বা দাঁড়িপাল্লা যেই জিতুক, তাঁদের কর্ম করেই খেতে হবে। কেউ খাওয়াবে না। তবে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে তিনি ভোট দিতে যাবেন। কারণ, গত তিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পরিবেশ ছিল না। এবার আশা, ভোট শান্তিপূর্ণ হবে।
সিলেট শহর, এর আশপাশের উপজেলাগুলো ঘুরে অসংখ্য ভোটারের সঙ্গে কথা বলি। প্রায় সবাই ভোট দিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন। দু-একজন বলেছেন, ভোট দেবেন কি না এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। সিলেট জেলায় নির্বাচনী আসন ৬টি। এ বিভাগের ৪ জেলায় আসনসংখ্যা ১৯। সিলেট শহরে বিভাগের প্রায় সব জেলার মানুষের বসবাস ও যাতায়াত রয়েছে।
সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী সুবর্ণা দেবের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাউরবাগ গ্রামে। ভোটের আগে তিনি বাড়ি যাবেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এবারই প্রথম ভোট দেব। ভালো একটা অনুভূতি হচ্ছে।’
স্থানীয় রাজনীতিক, বিএনপির সমর্থক ও ভোটারদের মতে, তারেক রহমানের সিলেট সফরের সময় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আপাতত কিছুটা মিটেছে। তবে ভেতরে ভেতরে যে দূরত্ব রয়ে গেছে, তা না ঘুচাতে পারলে ভোটে প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে একটা বিষয় পরিষ্কার যে এই বিভাগের বেশির ভাগ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির ধানের শীষ আর জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। তবে এ বিভাগে বিএনপির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা মনোনয়ন পাননি। কেউ কেউ কাঙ্ক্ষিত আসনে মনোনয়ন না পেয়ে অন্য আসনে পেয়েছেন।
এতে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব-মনোমালিন্য রয়ে গেছে। জোটের শরিকদের আসন ছেড়ে দেওয়ার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলের চিন্তা বাড়িয়েছেন কেউ কেউ।
স্থানীয় রাজনীতিক, বিএনপির সমর্থক ও ভোটারদের মতে, তারেক রহমানের সিলেট সফরের সময় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আপাতত কিছুটা মিটেছে। তবে ভেতরে ভেতরে যে দূরত্ব রয়ে গেছে, তা না ঘুচাতে পারলে ভোটে প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে সিলেট বিভাগে জামায়াতে ইসলামী অতীতে খুব বেশি ভালো করেনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সিলেট-৫ আসনে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বলার মতো অর্জন নেই দলটির। হাসিনার সরকারের পতনের পর জামায়াত শক্তি অর্জন করেছে বলে স্থানীয়রা বলছেন। তবে সিলেট বিভাগে ১৯টির মধ্যে ১০টি আসনই জোটের শরিকদের ছেড়ে দিয়েছে জামায়াত। একটি আসন উন্মুক্ত। অর্থাৎ ৮টি আসনে জামায়াতের দলীয় প্রার্থী রয়েছে। দলটির নেতারা মনে করছেন, জোটের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া কিছু আসনে নিজেরা ভোট করলে জামায়াতের প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এখন জোটের প্রার্থীদের দিয়ে সেই ফলাফল পাওয়া কঠিন হবে।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি এম এ মালিক। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর যুক্তরাজ্যে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি দেশে আসেন। এখানে বিএনপির শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এম এ সালাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ খান জামালসহ আরও কয়েকজন মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, এম এ মালিক চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর কাইয়ুম, সালাম, আহাদসহ অপর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। তবে প্রবাসে থাকার কারণে অনেকটা ‘বিচ্ছিন্ন থাকা’ মালিককে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকেরা কতটা মন থেকে মেনে নিতে পারছেন সেই আলোচনা আছে। প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও ভেতরে-ভেতরে দলের একটা অংশ ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অবশ্য জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘বড় দলে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকাই স্বাভাবিক। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ। জেলায় বিএনপি ও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে আমরা সবাই মাঠে আছি।’
স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, এম এ মালিক চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর কাইয়ুম, সালাম, আহাদসহ অপর মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাঁর পক্ষে মাঠে নেমেছেন। তবে প্রবাসে থাকার কারণে অনেকটা ‘বিচ্ছিন্ন থাকা’ মালিককে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকেরা কতটা মন থেকে মেনে নিতে পারছেন সেই আলোচনা আছে। প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও ভেতরে-ভেতরে দলের একটা অংশ ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সিলেট-৫ আসনটি বিএনপি ছেড়ে দিয়েছে জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুককে। এখানে জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপি তাঁকে বহিষ্কার করলেও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অনেকেই মামুনের পক্ষে কাজ করছেন।
সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। এখানে বিএনপির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। সবাই প্রকাশ্যে অবশ্য দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আছেন, তবে আড়ালে ‘বিভেদ’ আছে বলে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী। বিএনপির সব কর্মী-সমর্থক খোলা মনে না নামলে বেকায়দায় পড়তে হবে। সিলেট জেলার মধ্যে এই আসনটিতেই বিএনপি ও জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর) আসনে বিএনপি প্রথমে মনোনয়ন দিয়েছিল তাহিরপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হককে। পরে তাঁকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন পান উপজেলার আরেক সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান। দুজনকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়ায় বঞ্চিত প্রার্থী বিদ্রোহী হওয়ার সুযোগ পাননি। কিন্তু আনিসুল হকের সমর্থকেরা এখনো মেনে নিতে পারেননি কামরুজ্জামানকে।
সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ ভোটার এবার ভোট দিতে যাবেন, এটা বলাই যায়। এই ভোট কার বাক্সে যাবে, এটা হয়তো প্রচারের শেষ দিকে আরও পরিষ্কার হবে। তবে বিএনপির বিভেদ ভাঙতে না পারলে ভোগাতে পারে দলটির প্রার্থীদের। অন্যদিকে জামায়াত জোটের শরিকদের সাফল্য নির্ভর করবে তারা সব দলের কর্মী-সমর্থকদের পুরোপুরি নামাতে পারছেন কি না, তার ওপর।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কয়ছর এম আহমেদ। এখানে দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন। সুনামগঞ্জ-৪ সদর আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তিনি সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নুরুল ইসলাম। স্থানীয়রা বলছেন, দুটি আসনেই বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলতে পারে দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
হবিগঞ্জ-১ আসনে শেষ সময়ে এসে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। কিন্তু এটি মেনে নিতে পারেননি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে রেজা কিবরিয়াকে চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছেন বলে নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান। বিএনপির মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মহসিন মিয়া (মধু)। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির পদ থেকে মহসিন মিয়াকে বহিষ্কার করলেও বিএনপিতে বিভক্তি রয়ে গেছে।
সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের দুই উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর ও আরিফুল হক চৌধুরী মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। এখানে মনোনয়ন পেয়েছেন মুক্তাদীর। আরিফুলকে মনোনয়ন দেওয়া হয় সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে।
স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা মনে করেন, দুইবারের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সদরে শক্ত অবস্থান। তিনি এখানে প্রার্থী হলে অনায়াসে বিএনপি জিতে যেত। কিন্তু তাঁকে যেখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেটি তার জন্য নতুন। সিলেট-৪ আসনকে জামায়াতের জন্যও সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে আরিফুল হককে কঠিন লড়াইয়ে পড়তে হচ্ছে।
সিলেট বিএনপির সূত্র বলছে, সিলেট সদরে আরিফুল হক মনোনয়ন না পাওয়ায় তাঁর সমর্থকেরা হতাশ, ক্ষুব্ধ। অবশ্য দল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতারা মুক্তাদীরের পক্ষে মাঠে তৎপর আছেন। যদিও আরিফুল ঘরানার লোকজন মুক্তাদীরের পক্ষে খোলা মনে কাজ করবেন কি না, সেই আশঙ্কা অনেকেরই।
আম্বরখানা বড় বাজার এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা মনির আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সিলেট সদর আসনে আরিফুল হকের জনপ্রিয়তা বিপুল। তিনি এখানে ভোট করলে জয় পেতে বেগ পেতে হতো না। কিন্তু আবদুল মুক্তাদীরকে ভালোই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হচ্ছে।
সিলেট-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জৈন্তাপুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদিন। জামায়াত আরিফুল হককে স্থানীয় প্রার্থী নয় বলে প্রচার চালাচ্ছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, আরিফুল সদরের মানুষ হলেও শক্তিশালী প্রার্থী। ফলে জামায়াতের সম্ভাবনাময় আসনটি কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে। আবার আরিফুল হককেও সহজ আসন ছেড়ে কঠিন আসনে লড়তে হচ্ছে।
আরিফুল হক মনোনয়নপ্রত্যাশী অন্যদের এক কাতারে নিয়ে আসতে পেরেছেন বলে দলটির নেতা-কর্মীরা দাবি করেছেন। তবে এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে এখনো আরিফুলের পক্ষে মাঠে নামতে দেখা যায়নি।
মিফতাহ্ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভাগের প্রতিটি আসনেই দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে যাচ্ছি। পর্যায়ক্রমে সবকটিতেই যাব। সিলেট-৪ আসনেও দু-তিন দিনের মধ্যে যাব।’
সিলেট-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী করেছিল দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমদকে। তিনি আসনটিতে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে ছিলেন। তবে জোটের কারণে শেষ মুহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়াতে হয় লোকমান আহমেদকে। ১১-দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দীন রাজুকে প্রার্থী মনোনীত করা হয়।
জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মত, এ আসনে জামায়াতের ভালো সংখ্যায় ভোট রয়েছে। বিপরীতে বিএনপির প্রার্থী এখানে তুলনামূলকভাবে নতুন, প্রবাস থেকে এসে ভোট করছেন। তাই জামায়াতের প্রার্থী থাকলে আসনটিতে জয় পাওয়ার ভালো সম্ভাবনা ছিল।
হবিগঞ্জ-১ আসনে সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী জোটের স্বার্থে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ান। এখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজসিলের প্রার্থী মুফতি সিরাজুল ইসলাম মিরপুরীকে সমর্থন দেয় জামায়াত। তবে জামায়াত সমর্থকেরা বলছেন, আসনটিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তুলনায় জামায়াত অনেক শক্তিশালী। শাহজাহান আলী দীর্ঘদিন আসনটিতে ভোট করার জন্য কাজ করছিলেন। এ ছাড়া বিএনপিতে বিভেদ ও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় জামায়াতের জেতার সম্ভাবনা ছিল। এখন জোটের প্রার্থী কতটা সুবিধা করতে পারবে তা নিশ্চিত নয়।
শাহজাহান আলী প্রথম আলোকে বলেন, জোট ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আসনটি ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত নন। জোটের প্রার্থীর পক্ষে তিনি কাজ করছেন।
সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ ভোটার এবার ভোট দিতে যাবেন, এটা বলাই যায়। এই ভোট কার বাক্সে যাবে, এটা হয়তো প্রচারের শেষ দিকে আরও পরিষ্কার হবে। তবে বিএনপির বিভেদ ভাঙতে না পারলে ভোগাতে পারে দলটির প্রার্থীদের। অন্যদিকে জামায়াত জোটের শরিকদের সাফল্য নির্ভর করবে তারা সব দলের কর্মী-সমর্থকদের পুরোপুরি নামাতে পারছেন কি না, তার ওপর।