আখতারুজ্জামান: একের পর এক অবস্থান বদল, রাজনৈতিক জীবন ‘বৈপরীত্যে’ ভরা

*আখতারুজ্জামানের জন্ম ১৯৫১ সালে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায়।

* বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালেই দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন আখতারুজ্জামান। বিএনপি থেকে পাঁচবার বহিষ্কার হন। গত সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে যোগ দেন।

* কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

* ২০২৪–এর বিতর্কিত ‘ডামি’ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

শুনানি শেষে এজলাস থেকে নিচে নামানোর সময় আখতারুজ্জামানের ছবিটি তোলা হয়। ঢাকা, ৩ অক্টোবর

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাস ছয়েক আগে ক্ষমতাচ্যুত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। তখন তিনি বিএনপি থেকে পঞ্চমবারের মতো বহিষ্কৃত ছিলেন। এর মধ্যেই কিশোরগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন আখতারুজ্জামান।

ভোটের গণসংযোগে গিয়ে বলেছিলেন, ‘ঘরে ঘুমিয়ে থাকলেও পাস করব, এটাই রাজনৈতিক বাস্তবতা’। কিন্তু ওই নির্বাচনে আখতারুজ্জামানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ‘ডামি’ নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ওই নির্বাচন বিএনপিসহ তখনকার বিরোধী দলগুলো বর্জন করেছিল।

২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে কিশোরগঞ্জে স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীকে ‘রগ কাটার দল’ আখ্যা দিয়ে দলটির বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সাবধান করেছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। একাত্তরের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য জামায়াতকে বিভিন্ন সময়ে ‘রাজাকার’, ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি যোগ দেন জামায়াতে। তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যখন চলছিল, তখন ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক একটি টক শোতে অংশ নিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, ‘সমস্ত রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, জামায়াত এটাতে (আন্দোলন) ইনভল্ভ (যুক্ত)।’ সেখানে তিনি আন্দোলনকারীদের সবাইকে ‘রাজাকারের সন্তান’ আখ্যা দিয়ে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ‘তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। ১০০ বার। আমি দাবি নিয়ে বলছি। তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য দেখেন।’ কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে তিনি যোগ দিয়েছেন জামায়াতে, যে দলটি তাদের সভা-সমাবেশ, বক্তৃতা-বিবৃতিতে ‘জুলাই’ নিয়ে বেশ সরব।

২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে কিশোরগঞ্জে স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামীকে ‘রগ কাটার দল’ আখ্যা দিয়ে দলটির বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সাবধান করেছিলেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

রাজনৈতিক জীবনজুড়ে এমন নানা ‘বৈপরীত্যের’ কারণে বরাবরই আলোচিত চরিত্র মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার এক মামলায় শুক্রবার তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবার তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার আদালত।

১ অক্টোবরের ওই ঘটনার সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’ বলে প্রকাশ্যে হুমকিও দেন তিনি। সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জামায়াতের সংসদ সদস্য, তাঁদের পরিবার ও দলটির নেতারা মিলে ৭১ সদস্যের প্রতিনিধিদল কয়েকটি দেশ সফর করে। তাঁদের সঙ্গে আখতারুজ্জামানও ছিলেন। ফেরার দিনই এই ঘটনা ঘটে।

অবশ্য শাহজালাল বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। এ ঘটনার পর গত শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী, সেবা বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

জিব ছিঁড়তে চাওয়া, গুম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই নানা মন্তব্য করে আলোচনায় ছিলেন আখতারুজ্জামান। বেসরকারি টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিভিন্ন টক শোতে তিনি প্রায় নিয়মিত আলোচক। বিভিন্ন সময়ে টক শোতে সহ-আলোচকদের প্রতি উত্তেজিত হয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ করতে দেখা গেছে আখতারুজ্জামানকে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এক টক শোতে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহবুব কামালের সঙ্গে তর্কে জড়ান আখতারুজ্জামান। মাহবুব কামালের ওপর রেগে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অভদ্রের মতো কথা বলেন কেন? আমাকে চ্যালেঞ্জ করেন কেন? এটা করবেন না।’ মাহবুব কামাল ‘সরি’ বললেও তিনি থামছিলেন না।

গত মার্চে টক শোতে আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমানের সঙ্গে তর্কাতর্কির মধ্যে আখতারুজ্জামান তাঁকে বলেন, ‘আপনার জিহ্বা ছিঁড়ে ফেলা দরকার।

গত মার্চে আরেক টক শোতে আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমানের সঙ্গে তুমুল বিতর্কে জড়িয়েছিলেন আখতারুজ্জামান। তর্কাতর্কির মধ্যে একটি কথার পরিপ্রেক্ষিতে আখতারুজ্জামান তাঁকে বলেন, ‘আপনার জিহ্বা ছিঁড়ে ফেলা দরকার।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের মতো রাজনীতিবিদদের জন্য গুম–খুন এসব কালচার আসে।’ অতীতে গুম হওয়ার কথা উল্লেখ করলে তারেকের উদ্দেশে তিনি এ–ও বলেন, ‘আপনার মতো লোক গুম হবে না তো কে হবে?’

চলতি বছরের মাঝামাঝি আরেকটি টক শোতে জবান ম্যাগাজিনের সম্পাদক রেজাউল করিম রনির সঙ্গে একাত্তরসহ জামায়াতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক দায় নিয়ে তর্কে জড়ান আখতারুজ্জামান। সেখানে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বরের আগপর্যন্ত জামায়াত পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, কিন্তু তারা গণহত্যা করে নাই।’ জামায়াত গণহত্যায় অংশ নেয়নি, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে এ কথাটি না বলতে অনুরোধ করেন রেজাউল করিম। তখন তিনি বলেন, ‘এক শ বার, হাজার বার বলব। প্রমাণ আছে।’

শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ

বিএনপির মনোনয়নে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচন করে হেরে যান আখতারুজ্জামান। কিন্তু ২০২২ সালে পঞ্চমবারের মতো দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও বিভিন্ন টক শোতে প্রায়ই দেখা যেত তাঁকে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মাস ছয়েক আগে ২০২৩ সালের ৮ জুন গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছিলেন আখতারুজ্জামান। ‘কিশোরগঞ্জ গ্রিন পাওয়ারের’ পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার হাতে একটি লিখিত আবেদন দিয়েছিলেন, যেখানে ৭০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। এর উদ্যোক্তা তাঁর ছেলে সাব্বির জামান।

ওই সাক্ষাতের পর থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে শেখ হাসিনার প্রশংসায় রীতিমতো পঞ্চমুখ ছিলেন আখতারুজ্জামান। পাশাপাশি বিভিন্ন টক শোতে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানেরও কড়া সমালোচনা করতেন তিনি। সে সময় এক টক শোতে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দশভুজা দেবীর মতো, সবকিছু উনি একা সামলাচ্ছেন।’

২০২৪ সালের ‘ডামি নির্বাচনে’ কিশোরগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রচারণা

বিএনপি থেকে পাঁচবার বহিষ্কৃত

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জন্ম ১৯৫১ সালে, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায়। ডাকনাম রঞ্জন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি–জনতার অভ্যুত্থানের সময় তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালেই দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন আখতারুজ্জামান।

আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন আসনটি শুধু কটিয়াদী উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল। পরে এই আসনে পাকুন্দিয়া উপজেলাকে যুক্ত করা হয়েছে। একসময় কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন তিনি। দল ও দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্যের কারণে তিনি বরাবরই আলোচনায় থেকেছেন। বিএনপিও তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে টক শোতে অংশ নিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপির লজ্জা-শরম নেই, কোনো ভিশন নেই। তাদের নেতাদের শরম হবে যখন কর্মীরা তাদের জুতাপেটা করবে।’ ওই বছর ২০ ফেব্রুয়ারি দল থেকে পঞ্চমবারের মতো বহিষ্কৃত হন আখতারুজ্জামান।

আখতারুজ্জামান বিএনপি থেকে প্রথমবার বহিষ্কৃত হন ১৯৯৬ সালে। তখন দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। সরকারে থাকা বিএনপি প্রথমে দাবিটি মানতে চাইছিল না। সে সময় আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জনগণের, তাই বিএনপির এটি মেনে নেওয়া উচিত। ওই বক্তব্যের পর তাঁকে প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

২০০০ সালে জাতীয় সংসদের একটি অধিবেশনে তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন আখতারুজ্জামান। এ কারণে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর আসন শূন্য হয়। আখতারুজ্জামান এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গেলেও ২০০১ সালের জুলাই মাসে সপ্তম সংসদ (১৯৯১-৯৬) বিলুপ্ত হওয়ার আগপর্যন্ত তাঁর আসনটি শূন্যই ছিল। সেবার দ্বিতীয়বারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন আখতারুজ্জামান।

২০১৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য দিয়ে তৃতীয়বার দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন মেজর আখতারুজ্জামান। চতুর্থবার বহিষ্কৃত হন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমালোচনা করে। তবে এই চারবারের প্রতিবারই পরবর্তী সময়ে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়েছিল।

সর্বশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপির লজ্জা-শরম নেই, কোনো ভিশন নেই। তাদের নেতাদের শরম হবে যখন কর্মীরা তাদের জুতাপেটা করবে।’ এই বছর ২০ ফেব্রুয়ারি দল থেকে পঞ্চমবারের মতো বহিষ্কৃত হন আখতারুজ্জামান। এরপর আর দলে ফিরতে পারেননি। তবে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গত নভেম্বরে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন আখতারুজ্জামান। তখন আবার বিএনপিতে ফেরার আলোচনা আসে।

অবশেষে জামায়াতে

শেষবার বহিষ্কৃত হওয়ার পর প্রায় চার বছর কোনো দলে যোগ দেননি আখতারুজ্জামান। অবশ্য এ সময় তিনি টেলিভিশন টক শোসহ নানা মাধ্যমে তৎপর ছিলেন। গত সংসদ নির্বাচনের আগে ১৩ ডিসেম্বর ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলের আমির শফিকুর রহমানের (বর্তমান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা) সঙ্গে দেখা করে প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন আখতারুজ্জামান। এ ঘটনা তখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, আখতারুজ্জামানের জামায়াতবিরোধিতার ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯৯১ সালে যখন জামায়াতের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে, তখন যাঁরা এর বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক সাক্ষাৎকারে আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাসী করলে কিছু আসে-যায় না। তারা রগ কাটার দল। আমি অনুরোধ করব বিএনপির নেতা-কর্মীদের, বিশেষ করে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ার নেতা-কর্মীদের। সাবধান হোন, জামায়াতের থেকে সাবধান হোন, জামায়াতের যারা ঘাপটি মেরে আমার দলে আছে, তাদের থেকে আপনারা সাবধান থাকেন।’ বিতর্কিত ওই নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘এবারের নির্বাচনটা সুন্দর হচ্ছে, সুষ্ঠু হচ্ছে, অবাধ হওয়ার চেষ্টা করতেছে, নির্বাচন কমিশন ভালো কাজ করতেছে। তবে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনটা বয়কট করে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। যার দায়ভার বিএনপির কাঁধে দিয়ে দিচ্ছে।’

অবশ্য গত ডিসেম্বরে জামায়াতে যোগ দেওয়ার পর গত ১৮ ডিসেম্বর আখতারুজ্জামান এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন, তিনি দেখেশুনে সচেতনভাবেই জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, ‘জামায়াতের কার্যক্রম ও বক্তব্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে।’

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর জামায়াত আখতারুজ্জামানকে ‘শেল্টার’ (আশ্রয়) দিয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অভ্যুত্থানের সময় ৯ দফা ঘোষণা করে আলোচনায় আসা সাবেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের। শনিবার বিকেলে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘অভ্যুত্থানের পর আখতারুজ্জামানকে কেন বিচারের আওতায় আনা হয়নি? অথচ এই লোক গণমাধ্যমে গিয়ে আন্দোলনের বিরোধিতা করেছেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে সরকারের হামলা-মামলাকে বৈধতা দিয়েছেন, খুনি হাসিনার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন রীতিমতো, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জুলাইতে সরাসরি মাঠেও নেমেছেন!’