
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, রক্তক্ষয় ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশে উদারপন্থী গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে দেশের ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।
আজ শনিবার বিকেলে ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মির্জা ফখরুল বক্তব্যের শুরুতেই বিগত বছরগুলোর আন্দোলন-সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আজকের এই দিনটি এক দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। আমাদের প্রায় ৬০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, ২০ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা এবং প্রায় ১ হাজার ৭০০ নেতা-কর্মীকে গুম করা হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘২৪-এর জুলাই ও আগস্টে প্রায় ২ হাজার ছাত্র, নারী ও শিশুর আত্মাহুতি এবং রক্তপাতের পর আমরা আজ গণতন্ত্রের প্রধান ফটকে উপনীত হয়েছি। এই বিজয় সেইসব শহীদের রক্তের ঋণ।’
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিগত সময় প্রমাণ করেছে যে জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যেমন ঐক্যবদ্ধ, ঠিক তেমনিভাবে ১৮ কোটি মানুষও আজ ঐক্যবদ্ধ। তারা উন্নয়ন, অবস্থা ও রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন চায়।’
এই বিজয়কে কেবল দলীয় বিজয় হিসেবে না দেখে ‘উদারপন্থী গণতন্ত্রের’ বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল। তাঁর মতে, এটি অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ এবং মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের বিজয়।
আসন্ন সরকার গঠন ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষকে নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছেন—একটি পরিবর্তিত, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন। আমরা সেই নতুন সূর্যের আলোয় আলোকিত হতে চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে সমাপনী বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।