
একটা দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশের অস্তিত্ব রাখবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘একদল লোক এখনই কী করছে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। এদের হাতে দেশের দায়িত্ব দিলে এই দেশের কোনো অস্তিত্বই এরা রাখবে না। এরা খাবলে, খামচে, কামড়ে আবার ৫৬ হাজার বর্গমাইল আর ১৮ কোটি মানুষকে শেষ করে দেবে এরা। এদের হাতে দেশের দায়িত্ব দেওয়া যায় না। এটা নিরাপদ নয়।’
আজ রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা–১৫ আসনে গণসংযোগ শেষে আয়োজিত এক পথসভায় শফিকুর রহমান এ কথাগুলো বলেন। রাজধানীর কাফরুলের ইব্রাহিমপুর পুলপার এলাকায় এই পথসভা হয়।
পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদকে আর বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে না। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি নির্মূল করা হবে। অতীতে পচা যে রাজনীতি বারবার ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, সে রাজনীতি যাঁরা দেখতে চান না, তাঁদেরকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দিতে হবে। যারা সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি করে, তাদের হাতে দেশ যাবে না।’
মায়ের ইজ্জতে টান দিলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘আমি কয়েক দিন ধরে এই অপকর্মের প্রতিবাদ করছি। গত রাতে আমার টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নোংরা একটা পোস্ট কোনো একটা বিপথগামী দিয়ে বসেছে। আর এটা নিয়ে কিছু মানুষ হইহই রইরই শুরু করে দিয়েছে। হ্যাঁ, আমরা ডাকাত ধরে ফেলেছি। কোন জায়গা থেকে এটা করা হয়েছে, এটা আমরা চিহ্নিত করে ফেলেছি। ইতোমধ্যে জাতির সামনে আমরা উন্মুক্ত করে দিয়েছি। একদম ফকফকা, উজ্জ্বলভাবে আমরা জাতির সামনে এটা তুলে ধরব। মনে রাখবেন, হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে পরোয়া করি না, অন্য কোনো ফ্যাসিস্টকে পরোয়া করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
সারা দেশে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে জোয়ার তৈরি হয়েছে দাবি করে জামায়াতের আমির বলেন, এই জোয়ার দেখে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কী করবে বুঝতে পারছে না। তারা এখানে–ওখানে হামলা করছে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা পাগল হয়ে গেছে।
জনগণ ইনসাফের পক্ষে দাঁড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের জয় হবে। সেই ভোট পাহারা দিয়ে ফলাফল হাতে নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে।
জনগণের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘কোনো ভোট ডাকাতকে আর ডাকাতি করতে দেবেন না, জালিয়াতকে জালিয়াতি করতে দেবেন না, ইঞ্জিনিয়ারকে ইঞ্জিনিয়ারিং করতে দেবেন না।’
জামায়াত আমিরের নির্বাচনী আসনের প্রধান সমন্বয়কারী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনের সভাপতিত্বে পথসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এসএম ফরহাদসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।