মনজুর হুমায়ুন, তপু রায়হান
মনজুর হুমায়ুন, তপু রায়হান

ঢাকা-১৭ আসন

তিনি ‘সম্ভাবনা দেখছেন না’, অন্যজনের ‘ফান্ড লিমিটেশন’

গুলশান, বনানী, বারিধারা, মহাখালী ও ক্যান্টনমেন্টের কিছু অংশ নিয়ে ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসন। এখানে প্রার্থী ১১ জন। তাঁদের মধ্যে আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মনজুর হুমায়ুন। নির্বাচনী এলাকায় এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো প্রচার-প্রচারণা সে অর্থে নেই।

মনজুর হুমায়ুন প্রথম আলোকে বলেন, পোস্টার, ব্যানার বা শো-অফের রাজনীতিতে তাঁরা বিশ্বাস করেন না। তাঁদের কর্মীরা সরাসরি ভোটারদের কাছে ‘ডোর টু ডোর’ (ঘরে ঘরে) যাচ্ছেন, সমস্যার কথা শুনছেন। এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

এই প্রার্থীর মূল্যায়ন হচ্ছে, ভোটাররা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সচেতন। ভোটাররা এখন বুঝতে পারছেন কে প্রকৃত অর্থে প্রতিনিধি হতে পারেন, আর কে শুধু দৃশ্যমান প্রচারে এগিয়ে থাকতে চান। সংখ্যার প্রদর্শন দিয়ে ভোটারের প্রকৃত চাহিদা বোঝা যায় না।

তাহলে জয়ের বিষয়ে আপনি কতটা আশাবাদী, এমন প্রশ্নে মনজুর হুমায়ুন বলেন, ‘আট-দশজনের মতো এ কথা বলতে পারি না যে আমি শতভাগ আশাবাদী। তবে আমি কোনো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি না।’

মনজুর হুমায়ুনের মতো দৃশ্যমান প্রচারে নেই বাইসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জেপি) তপু রায়হানও। এর কারণ হিসেবে ফান্ড লিমিটেশনের (তহবিল–স্বল্পতা) কথা জানিয়ে তপু রায়হান প্রথম আলোকে বলেন, কাপড়ের ব্যানার করার কথা নির্বাচন কমিশন ( ইসি) থেকে বলা হলেও কেউ কেউ ডিজিটাল ব্যানার করছেন। প্রচারের নামে ঢাকা-১৭ আসনে টাকার খেলা চলছে।

তপু রায়হানের বাবা বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও সাহিত্যিক জহির রায়হান। তাঁর মা বরেণ্য অভিনয়শিল্পী কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। তপু রায়হান নিজেও অভিনেতা। নিজ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার যে মূল্যবান ভোটটা, সেটা আপনি কোনো দলের মার্কা দেখে দেবেন না; আপনি প্রার্থীকে দেখে দেবেন।’

ঢাকা–১৭ আসন থেকে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর পক্ষে বিএনপির নেতা–কর্মীরা প্রতিদিন প্রচার চালাচ্ছেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামানও নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই সক্রিয় রয়েছেন।

এ আসনের আওতাধীন গুলশান ও বনানীকে ‘ভিআইপি’ এলাকা বলে মনে করেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ উল্লাহ। হাতপাখা প্রতীকের এই প্রার্থী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ভোটাররা মূলত ভাষানটেক, কড়াইলসহ অন্য এলাকায় থাকেন। সে জন্য তিনি ওই সব এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন।

ইসলামী আন্দোলনের এই প্রার্থী নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্ব করছে। এভাবে হলে ভালো নির্বাচন হবে না। নির্বাচনী মাঠে ‘লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড’ (সবার জন্য সমান সুযোগ) না থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি।

এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। তাঁদের মধ্যে কাজী এনায়েত উল্যাহ মোরগ প্রতীকে এবং মো. আনিসুজ্জামান ময়ূর প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই দুই প্রার্থীর মধ্যে মোরগ প্রতীকের ব্যানার বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বনানী কবরস্থানের পাশের সড়ক দিয়ে গুলশান-২ নম্বরের দিকে যেতে মোরগ প্রতীকের ব্যানার দেখা যায়। এর একটু দূরে ছিল ধানের শীষে ভোট চেয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যানার। ওই এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামানেরও একাধিক ব্যানার রয়েছে।

বনানী, মহাখালী ও গুলশান-১ নম্বর এলাকায়ও ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যানারের আশপাশেই মোরগ প্রতীকের ব্যানার দেখা গেছে।

এ আসনের অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিক আহমেদ, টেলিভিশন প্রতীকের বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) এস এম আবুল কালাম আজাদ, কাঁঠাল প্রতীকের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কামরুল হাসান নাসিম ও ‘ডাব’ প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. শামিম আহমদ।

ঢাকা–১৭ আসনের বেশ কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে গত দুই দিনে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁদের একজন শফিকুল ইসলাম। গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরের পাশে তাঁর ওষুধের দোকান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের লোকজন প্রায়ই আসেন, লিফলেট দেন, ভোট চেয়ে চলে যান। বাকি প্রার্থীদের সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা নেই।