
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের পর রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা–ই–আলিয়ার (আলিয়া মাদ্রাসা) সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসার সামনের সড়কে দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এর পর থেকে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতা–কর্মীদের মধ্যে ইট–পাটকেল নিক্ষেপ এবং দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেখানে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
এর পর থেকে আলিয়া মাদ্রাসার সামনে ছাত্রদল ও শিবিরের নেতা–কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। বেলা তিনটার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সে সময়ও দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
পরে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো সংঘর্ষ বন্ধ থাকলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সে সময় আলিয়া মাদ্রাসা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল আলিম সাংবাদিকদের বলেন, দুপুরের দিকে হঠাৎ ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা হলে ঢুকে শিবিরের নেতা–কর্মীদের মারধর করে হলের বেশ কয়েকটি রুমে তালা দেন। এরপর তাঁরা ছাত্রদল নেতা–কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে হল থেকে বের করে দেন। পরে ছাত্রদল আবার দলবল নিয়ে এলে শিবিরের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তাঁদের প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন।
অপর দিকে ছাত্রদলের ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী সাদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবিরের নেতা–কর্মীরা হলের বেশ কয়েকটি রুম দখল করে রেখেছেন। গতকাল সোমবার রাতে তাঁরা বহিরাগত ব্যক্তিদের হলে এনে রাখেন। আজ শিবিরের নেতা–কর্মীরা ছাত্রদলের একটি রুম তালাবন্ধ করে রাখে। এরপর ছাত্রদল বেশ কয়েকটি রুমে তালা লাগালে শিবিরের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের মারামারি শুরু হয়। এতে ছাত্রদল ও যুবদলের ১৮ জনের মতো আহত হয়েছেন বলে জানান সাদ চৌধুরী।
এরপর বিকেল সোয়া পাঁচটায় আবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলছে। ছাত্রদলের সঙ্গে স্থানীয় যুবদল ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা যুক্ত হয়েছেন।