
দীর্ঘদিন বিএনপিতে যুক্ত থাকলেও এবারই প্রথম সংসদে গেলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু; এর পাশাপাশি প্রথমবার মন্ত্রী হলেন তিনি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শপথ নেন। নতুন মন্ত্রিসভায় আবদুল আউয়াল মিন্টু পেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
আবদুল আউয়াল মিন্টুর জন্ম ফেনী জেলার আলাইয়ারপুর গ্রামে ১৯৪৯ সালে। ফেনী পাইলট হাই স্কুলে পড়াশোনার পর তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি চট্টগ্রামের জুলদিয়া মেরিন একাডেমি থেকে নৌবিদ্যায় ডিপ্লোমা করেন। এরপর পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক জাহাজে ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি এ চাকরিতে ছিলেন।
১৯৭১ সালের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর বন্দরে জাহাজে অবস্থান করছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তখন তিনি চাকরি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় হন। মুক্তিযুদ্ধ শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই চাকরির পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা নেন। তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের অধীন মেরিটাইম কলেজে ভর্তি হন। ১৯৭৩ সালে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে পরিবহনবিজ্ঞানে বিএসসি ডিগ্রি এবং ১৯৭৭ সালে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।
নিউইয়র্কে একটি শিপিং কোম্পানিতে প্রায় আট বছর চাকরি শেষে দেশে ফেরেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। এরপর তিনি একে একে শিপিং, রেস্তোরাঁ, ব্যাংক, বিমা, জ্বালানি, সিমেন্ট, পর্যটন, শিল্প, বিপণন, বীজ ও গবাদিপশুর উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৯৮–২০০০ এবং ২০০৩–০৫ মেয়াদে তিনি দেশে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিবিসিআইয়ের সভাপতি ছিলেন। এই ব্যবসায়ী লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত রেখেছেন নিজেকে। অর্থনীতি, রাজনীতি, সুশাসন প্রভৃতি নিয়ে তার লেখা একাধিক বই রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ: পরিবর্তনের রেখাচিত্র; বাংলাদেশ: অ্যানাটমি অব চেঞ্জ; সন্তানকে পিতার কথামালা এবং শাকসবজির চাষাবাদ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনে বিএনপির প্রার্থী হন আবদুল আউয়াল মিন্টু, বিজয়ী হন অর্ধলক্ষ ভোটের ব্যবধানে।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হিসেবে হিসেবে আলোচিত ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তাঁর ও তাঁর স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৬০৭ কোটি টাকা। হলফনামায় নিজের ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা দায় থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একক ও যৌথ নামে ২৮০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ থাকার তথ্য রয়েছে হলফনামায়।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল বিএনপিতে সক্রিয়। তিনি দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন তিনি।