
কোনো সরকার এককভাবে দেশের সব সমস্যার সমাধান দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আমীর খসরু বলেছেন, কার্যকর সমাধান ও বাস্তব ডেলিভারির জন্য সরকারকে সিভিল সোসাইটি, বেসরকারি খাত, এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে অংশীদারির ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংলাপে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে এমন একটি পরিবেশের প্রয়োজন ছিল, যেখানে ভিন্নমতের মানুষ একসঙ্গে বসে মুক্তভাবে কথা বলতে পারবে। সেই পরিবেশ এখন তৈরি হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে সরকারকে একক সিদ্ধান্তের পথ থেকে সরে এসে অংশীদারিভিত্তিক শাসনব্যবস্থায় যেতে হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের একার পক্ষে কার্যকর ডেলিভারি সম্ভব নয়। এসব ক্ষেত্রে সিভিল সোসাইটি, বেসরকারি খাত ও অন্যান্য অংশীজনকে যুক্ত না করলে নীতিনির্ধারণ বাস্তবে ফলপ্রসূ হয় না।
রাজনীতিবিদদের জবাবদিহি প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, রাজনীতিকদের ওপর জনগণের আস্থা তৈরির দায়িত্ব রাজনীতিকদেরই। বক্তৃতা দিয়ে এই আস্থা তৈরি করা যায় না। সংসদের ভেতরে ও বাইরে কার্যকর জবাবদিহির মাধ্যমেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।
ক্ষমতায় গেলে রাজনীতিকদের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার প্রবণতার কথাও তুলে ধরেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর অনেক সময় একটি ‘আইসোলেশন বাবল’ তৈরি হয়, যেখানে ক্ষমতা মানুষের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক উঁচুতে পৌঁছেছে। এই পরিবর্তন যারা বুঝতে পারবে না, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে দেশের সব সমস্যার সমাধান করবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।
আমীর খসরু বলেছেন, প্রতিটি দলের নিজস্ব দর্শন, চিন্তা ও রূপরেখা আছে। গণতন্ত্র মানে ঐকমত্যের নামে ভিন্নমতকে চাপা দেওয়া নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ নিজ প্রস্তাব নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে এবং জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
আমীর খসরু বলেন, বিএনপি একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক দল হিসেবে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণে বিশ্বাস করে। কেবল রাজনীতিতে গণতন্ত্র রেখে অর্থনীতিকে গোষ্ঠীকেন্দ্রিক পৃষ্ঠপোষকতার মধ্যে রাখলে সাধারণ মানুষ বঞ্চিতই থেকে যায়।