
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীরের দরবারে অগ্নিসংযোগ ও পীরকে হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি বলেছে, এই হামলার উসকানিদাতা, পরিকল্পনাকারী এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের যথাযথভাবে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেছে এনসিপি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে একটি দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি। এতে দরবারে প্রধান ও পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নিহত হয়েছেন। এনসিপি এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
এনসিপি বলেছে, ‘আমরা মনে করি, ধর্ম অবমাননা কিংবা এ ধরনের সংবেদনশীল অভিযোগের তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি কর্তৃপক্ষ হচ্ছে আদালত। “মব-সহিংসতা” করে যারা অগ্নিসংযোগ ও হত্যা করেছে, তারা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ করেছে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বলা বাহুল্য, এ ধরনের ‘মব-সহিংসতা’ স্থানীয় ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়া ব্যতীত সম্ভব নয়। গত বছর রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাতেও রাজনৈতিক শক্তির ছত্রচ্ছায়া দেখা গেছে।
এনসিপি বলেছে, সরকারের তরফ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বারবার ‘মব কালচার’ শেষ করার ঘোষণা দিলেও ‘প্রকৃত মব’ থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। জাতীয় নির্বাচনের পরপরই বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) সরকার-সমর্থিত পক্ষ ‘মব’ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুজন ব্যক্তিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে।
এনসিপির অভিযোগ, একদিকে সরকার ‘মব কালচার’ শেষ করার ঘোষণা দিয়ে সরকার-সমর্থিত ‘মব’কে প্রশ্রয় দিচ্ছে। অন্যদিকে ‘মব কালচার’ পরিভাষাটিকে সরকারি দলের নেতা–কর্মীরা রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে উল্লেখ করে এনসিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরকারের সব বিষয়ে মুখপাত্রের ভূমিকা পালন না করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।