
‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন একদল তরুণ আলেম। আজ বুধবার সকাল ৯টায় সচিবালয়ে আইনমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তরুণ আলেমরা আইনমন্ত্রীকে বলেছেন, পিতা-মাতা, প্রবীণ ব্যক্তি ও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার সুরক্ষার যে উদ্দেশ্য বিলটিতে রয়েছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। তবে মুসলিম নাগরিকদের সম্পত্তি হস্তান্তর, হেবা, ওসিয়ত ও মিরাসের মতো বিষয়গুলো কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিধানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় সম্ভাব্য শরয়ি জটিলতা রয়েছে। তাঁরা আইনমন্ত্রীকে জানান, দাতার জীবদ্দশায় মালিকানা হস্তান্তর করেও ভোগাধিকার মৃত্যুর পর কার্যকর করার ব্যবস্থা প্রচলিত হেবার শরয়ি কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্য তৈরি করতে পারে। আবার এর প্রয়োগ যদি ওসিয়তের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, তাহলে ওয়ারিসের জন্য ওসিয়ত এবং নির্ধারিত মিরাসের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তরুণ আলেমদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইনটির অপব্যবহারের মাধ্যমে কোনো উত্তরাধিকারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে বঞ্চিত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বৈঠকে তাঁরা দেশের শীর্ষ মুফতি, ফকিহ, ইসলামি আইন গবেষক ও আইনজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তাঁদের মতে, এ কমিটির মাধ্যমে বিলটি পুনর্বিবেচনা করে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে প্রবীণ ও দাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মুসলিম নাগরিকদের হেবা, ওসিয়ত ও মিরাসের শরয়ি বিধানও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, জাতীয় উলামা মশায়েখ আইম্মাহ পরিষদের মহাসচিব মুফতি রেজাউল করিম আবরার, ইসলামবাগ মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, বাংলাদেশ ফিকহ একাডেমির মহাপরিচালক মুফতি ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী, জাতীয় উলামা মশায়েখ আইম্মাহ পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, মোহাম্মদপুর মোহাম্মদী হোমস জামে মসজিদের খতিব মুফতি আদনান মাসউদ প্রমুখ।