রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে
রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে

গণভোটের চার প্রশ্ন জাতি যদি না বোঝে, ৩১ প্রশ্ন বোঝে কীভাবে: জামায়াত আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোট নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতা ও মন্ত্রীদের তোলা বিভিন্ন প্রশ্নের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

বিএনপির উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘গণভোটের চার প্রশ্ন জাতি যদি না বোঝে, তাহলে ৩১ প্রশ্ন বোঝে কীভাবে? এগুলো সব গোঁজামিল, ভাঁওতাবাজি।’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের স্মরণে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা।

ক্ষমতাসীন বিএনপি গণভোট মানছে না উল্লেখ করে সভায় শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের ব্যাপারে বলা হয়, এটা তো সংবিধানে নেই। বলা হয়, ‘এই চার প্রশ্ন এত জটিল, আমিই বুঝতে লাগে চার ঘণ্টা, জনগণ কীভাবে ভোট দিল।’ তিনি বলেন, কেন? এই ৪ প্রশ্ন তো ১৭ দিন আগে থেকে প্রচার করা হয়েছে, সব গণমাধ্যমে খোলাসা করা হয়েছে, গোপন রাখা হয়নি।

নির্বাচনের জন্য বিএনপি গণভোট মেনে নিয়েছে এবং ভোট পাওয়ার জন্য টোল মওকুফের কথা বলেছিলাম—সংসদে সরকারের দুজন মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘রাজনীতিবিদেরা যদি জাতির সঙ্গে এ রকম প্রতারণা করেন, তাহলে এ দেশের মানুষ যাবে কোথায়? যাঁরা দেশ চালাবেন, দেশের জন্য আইন ও নীতি তৈরি করবেন, তাঁদের ন্যূনতম একটা নৈতিক মানদণ্ড থাকা উচিত। নির্বাচনের আগে তাঁরাও বললেন, আমরাও বললাম। ৭০ ভাগের মতো জনগণ গণভোটে “হ্যাঁ” বলল। এখন তাঁরা বলেন, “৫১ শতাংশ মানুষ আমাদের রায় দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমরা এটা মানব না। কারণ, আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।” ৫১ বড়, না ৭০ বড়?’

সংবিধান সংশোধন কমিটির বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে কোনো কমিটি কোনো বিধিতে, কোনো সংবিধানে আছে কি না। যদি না থাকে, এটা কেন? এটা হচ্ছে জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়া, গণভোটকে ভুলিয়ে দেওয়া।’

আলোচনা সভায় প্রতিবেশী দেশ ভারতের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন কয়েকজন বক্তা। এ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরাই একমাত্র দল, যাদের তারা (ভারত) পছন্দ করে না। তারা বলেছে, বাংলাদেশের সব দলকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ, শুধু জামায়াতে ইসলামী লাল কার্ড।’

জামায়াত এই লাল কার্ডের পরোয়া করে না বলে জানান শফিকুর রহমান। ভারতের বুকে আশ্রয় নেওয়ার কথা জামায়াত কোনো দিন চিন্তাও করে না বলেন তিনি।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, চব্বিশ না হলে তিনি আজ এখানে বক্তব্য দিতে পারতেন না। চব্বিশ না হলে বিরোধী দল বা বিরোধী দলের নেতাও হতে পারতেন না। সেভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।

সভায় জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বক্তব্য দেন। তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের লোকজন এলাকায় ফিরে এসে এখন তাঁদের হুমকি দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, কার্যত এই হুমকি জাতিকে দেওয়া হচ্ছে। জামায়াত এই পরিবারগুলোর পাশে আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। দলের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় এতে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ মোবারক হোসেনের বাবা রমজান আলী, শহীদ মেহেদী হাসানের বাবা শেখ জামাল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান, অভ্যুত্থানের সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা মঞ্জুরুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।