
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেছেন, ‘আমরা পরস্পরের বিরুদ্ধে কথা বললেও আমরা একটি জায়গায় একমত, এক কণ্ঠ—ফ্যাসিবাদের জায়গা আমরা আর বাংলাদেশে হতে দেব না।’
আজ শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে গণ অধিকার পরিষদের সংহতি সমাবেশে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন বিএনপির এই নেতা।
তিন দফা দাবিতে এই সংহতি সমাবেশের আয়োজন করে গণ অধিকার পরিষদ। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকসহ দলটির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলায় জড়িতদের শাস্তি; জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের বিচার, নিবন্ধন বাতিল ও রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ।
সমাবেশে বিএনপি নেতা হাবিব উন নবী খান বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের ওপর বিভিন্ন সময়ে হামলা হয়েছে। বারবার রক্ত ঝরেছে। এখন তো স্বৈরাচার নাই, তাহলে নুরুল হককে রক্তাক্ত করেছে কারা?’
নুরুল হকের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা একটি মৃত অধ্যায়। জাতীয় পার্টি আর আওয়ামী লীগ একই ফ্রেমে আবদ্ধ। যখনই এরশাদ বিপদে পড়েছেন, হাসিনা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর হাসিনা বিপদে পড়লে জাতীয় পার্টি তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।’
নুরুল হকের ওপর হামলাকে গণতন্ত্র ও দেশের ওপর হামলা বলে মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলছি, এই হামলায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততা আমরা দেখেছি।’ হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান এই জামায়াত নেতা।
এর আগে বিকেল চারটায় সংহতি সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি মিছিল এসে যুক্ত হয়। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ছাড়াও মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও হেলাল উদ্দিন।
নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনাকে মর্মান্তিক মন্তব্য করে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।’ তিনি আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল নিষিদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অনুমতি ছাড়া নুরুল হকের ওপর হামলা হয়নি দাবি করে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, এই হামলার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে। বিপ্লব–পরবর্তী সময়ে এমন একজন ব্যক্তি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হতে পারেন না। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, সংহতি সমাবেশে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে সচিবালয় ঘেরাও করা হবে।
রাশেদ খান প্রশ্ন তোলেন, যে অপরাধে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলো, সেই অপরাধে জাতীয় পার্টি কেন নিষিদ্ধ হবে না। তিনি বলেন, ‘হাসিনা যে অপরাধ করেছেন, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দল একই অপরাধ করেছে। তাই জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।’
সংহতি সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব আতাউল্লাহ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হারুন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাাহ, খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসীর আলী, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাত, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) মহাসচিব মুমিনুল আমিন, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মঞ্জুর মোর্শেদ, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান প্রমুখ।