আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ‘আগামীর বাংলাদেশ: তারুণ্যের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে বন্ধুসভা। এতে সহযোগিতা করে ব্র্যাক। প্রথম আলো কার্যালয়, ঢাকা; ১৩ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ‘আগামীর বাংলাদেশ: তারুণ্যের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনার আয়োজন করে বন্ধুসভা। এতে সহযোগিতা করে ব্র্যাক। প্রথম আলো কার্যালয়, ঢাকা; ১৩ আগস্ট ২০২৬

আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা

প্রতিটি পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তরুণেরা, পরে ক্ষমতা চলে যায় প্রবীণদের হাতে

দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনগুলোতে তরুণেরা নেতৃত্ব দিলেও পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় তাঁদের জায়গা তৈরি হচ্ছে না। প্রতিবারই বিজয়ের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা প্রবীণদের হাতে ক্ষমতা চলে যায়। রাজনৈতিক ক্ষমতার উপাদানগুলো তরুণদের হাতে না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরিসরেও তাঁরা পিছিয়ে পড়ছেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ‘আগামীর বাংলাদেশ: তারুণ্যের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে প্রথম আলো বন্ধুসভা এ আলোচনার আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে ব্র্যাক।

প্যানেল আলোচনায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণেরা নেতৃত্ব দিয়েছেন; কিন্তু প্রতিবারই দেখা গেছে, বিজয়ের পর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা সিনিয়রদের (প্রবীণ) হাতে ক্ষমতা চলে গেছে, তরুণদের যেতে হয়েছে ‘ব্যাকসিটে’। তাঁর ভাষায়, দেশের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা তরুণদের পরিবর্তে অন্যরা দখল করে ফেলেছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের শক্তি থেকে তরুণদের নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হলেও পুরোনো রাজনৈতিক রীতিই সেখানে প্রতিফলিত হচ্ছে।

ব্র্যাকের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান বলেন, বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস), বড় আইএনজিও (আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা) বা বিদেশে যাওয়াকে তরুণেরা সম্মানজনক পেশা মনে করলেও কৃষি, উদ্যোক্তা হওয়া বা কারিগরি শিক্ষাকে এখনো সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। তরুণদের দ্রুত ফল পাওয়ার প্রবণতা একদিকে উদ্যোক্তা তৈরির চালিকাশক্তি হলেও ঘন ঘন কাজ বা পেশা বদলের কারণে গভীর দক্ষতা তৈরি না হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সাফি রহমান খান বলেন, বাংলাদেশ এখনো তুলনামূলকভাবে একটি তরুণ রাষ্ট্র। তাই অন্য উন্নত দেশগুলোর মতো এই রূপান্তরের জন্য কিছুটা ধৈর্য ধরা প্রয়োজন। প্রবীণ প্রজন্মের উচিত তরুণদের এই পরিবর্তন-প্রক্রিয়ায় বাধা না দেওয়া।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশনস মো. আবদুল কাইয়ুম বলেন, প্রবীণ প্রজন্মকে তরুণদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের ভাষা নয়; বরং শ্রদ্ধা ও গ্রহণযোগ্য আচরণের মাধ্যমে সংযোগ তৈরি করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে অনানুষ্ঠানিক আন্তঃপ্রজন্ম যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানো গেলে এই ফারাক কমে আসবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান বলেন, সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আকর্ষণের একটি বড় কারণ চাকরির নিরাপত্তা। দক্ষতা হালনাগাদ না করলেও চাকরি হারানোর ঝুঁকি কম থাকায় তরুণেরা এদিকে আকৃষ্ট হন।

বিসিএস–কেন্দ্রিক মানসিকতাকে ‘স্ক্যাম’ আখ্যা দিয়ে রাশেদা রওনক বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা ছাড়া কোনো পেশাতেই প্রকৃত নিরাপত্তাবোধ তৈরি সম্ভব নয়।

প্যানেল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি বুলবুল হাসান, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অ্যাডভাইজার (চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়ুথ লিডারশিপ) ফাল্গুনী রেজা, ব্র্যাক ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম ও মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক মো. আবদুল কাদির, এক্সিলেন্স বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী বেনজির আবরার, বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক, নির্বাহী সভাপতি ফরহাদ হোসেন মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক সাইমুম মৌসুমী বৃষ্টি। প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের বিতর্ক ও অনুষ্ঠান সম্পাদক কামরুল ইসলাম।

প্যানেল আলোচনার আগে দিনব্যাপী আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিক দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস ডিবেটিং ক্লাব আর রানার্সআপ হয়েছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি। শ্রেষ্ঠ বক্তা হয়েছেন চ্যাম্পিয়ন দলের শহিদুল ইসলাম। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।