
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর মাধ্যমে সরকার পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পথেই হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর নিপীড়নমূলক আইনি কাঠামো পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, প্রস্তাবিত সংশোধনী তার বিপরীত।
আজ শনিবার রাজধানীর তোপখানা রোডে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কার্যালয়ে ‘প্রস্তাবিত সাইবার আইন: জবান বন্ধের নয়া বন্দোবস্ত’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে হাসনাত কাইয়ূম এ কথা বলেন।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে নিরাপত্তার নামে যেভাবে ভিন্নমত দমন করা হয়েছিল, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে তারই পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকলে রাজনৈতিক স্বার্থে আইনের অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ে।
বিএনপিকে গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে হাসনাত কাইয়ূম দলটিকে হাসিনার পথে না হাঁটার আহ্বান জানান। সরকার প্রস্তাবিত আইনের অবস্থান থেকে সরে না এলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বৈঠকে গীতিকবি ও অধিকারকর্মী শহীদুল্লাহ ফরায়জী বলেন, এটি সাইবার সুরক্ষা আইন নয়, বরং সরকার সুরক্ষা আইন হয়ে উঠছে।
সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকদের সরকারের সমালোচনা করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারেরই দায়িত্ব।
আলোচনা ছাড়াই সাইবার পুলিশ গঠন করে সরকার নাগরিকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে বলে অভিযোগ করেন ডিএসএ ভিকটিমস নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক গোলাম মাহফুজ জোয়ার্দার।
গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দল-মতনির্বিশেষে আবারও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজন হবে।
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) স্থায়ী কমিটির সদস্য কে এম জাবির, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের সংগঠক বাকী বিল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বৈঠক সঞ্চালনা করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া।