
জাতীয় নির্বাচনে নিজেদের ভুলত্রুটি ও দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করা গেছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যেন একই ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।
সম্মেলনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আগামীর সিটি নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন জামায়াতের আমির। জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে, কিন্তু তা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। জনগণ আমাদের বলে, ভোট আপনাদের দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনারা তা রক্ষা করতে পারলেন না। তখন আমাদের বলতে হয়, আমাদের দুর্বলতা ছিল।’
সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘সামনে সিটি নির্বাচনে আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে ও দিনরাত একাকার করে কাজ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের ভুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। এবার এগুলোর আলোকে কাজ করলে আশা করি আর ভুল হবে না।’ এ সময় তিনি সিটি নির্বাচনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রাচীর গড়ে তোলার এবং কোনো ছাড় না দেওয়ার কথা বলেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, তাঁরা আর বসে বসে তামাশা দেখবেন না। সংগতভাবেই প্রতিবাদ করবেন এবং যেখানে সামর্থ্য থাকবে, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে তৈরি ‘নাগরিক সেবা’ নামের একটি অ্যাপ উদ্বোধন করেন শফিকুর রহমান।
সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারও আসন্ন মেয়র নির্বাচনে দলের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামীর মেয়র নির্বাচনে শক্তিশালী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের ত্যাগ-তিতিক্ষার প্রমাণ দিতে হবে। এতে মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনে যথাযথ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্মেলন দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ছিল নির্বাচনী সেশন। সেখানে ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির নির্বাচনে রুকনরা (শপথধারী কর্মী) ভোট দেন। নির্বাচন পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন। ১৩ হাজারের বেশি রুকন ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে জামায়াত।
বেলা ১১টা থেকে সাংগঠনিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মুহাম্মদ রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।