মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। ৮ অক্টোবর
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। ৮ অক্টোবর

ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ৯৪ শতাংশ পদ ফাঁকা

ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মোট ৬৪টি পদের মধ্যে ৬০টিই শূন্য, যা মোট পদের ৯৪ শতাংশ। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এসব শূন্য পদ পূরণ করার সুপারিশ করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার এই কমিটির বৈঠক হয়।

জানা গেছে, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ২০০৬ সালে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রথম ডিএনএ ল্যাব ‘ন্যাশনাল ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালে গঠিত হয় ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

এই অধিদপ্তরের অধীন ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় ফরেনসিক ডিএনএ প্রোফাইলিং ল্যাবরেটরিটি ঢাকা মেডিকেল কলেজে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ছাড়া সাতটি বিভাগে ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি রয়েছে। বিভাগীয় এসব ল্যাবে মূলত নমুনা সংগ্রহ ও স্ক্রিনিং করা হয়। এরপর সংগৃহীত নমুনা ঢাকার জাতীয় ল্যাবে পাঠিয়ে ডিএনএ প্রোফাইলিং সম্পন্ন করা হয়।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার পরিচিতিমূলক তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিএনএ ল্যাবরেটরি অধিদপ্তরের দেওয়া নথিতে দেখা গেছে, অনুমোদিত পদের মধ্যে মহাপরিচালক, পরিচালক, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালকসহ কয়েকটি পদে অন্যান্য দপ্তর থেকে সংযুক্তির (সংযুক্তি পদায়ন) মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে ৯টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদ ও ১৮টি ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টের পদসহ মোট ৬০টি পদই ফাঁকা। প্রতিবেদনে সংস্থাটি জনবল–সংকট, যানবাহন–সংকট ও নিজস্ব স্থাপনা না থাকাকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ডিএনএ ল্যাবের একটি সূত্র জানায়, এই জনবল–সংকটের পেছনে মামলাসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। অতীতে প্রকল্পে কাজ করা ৩৪ কর্মকর্তা অধিদপ্তরে আত্তীকরণের জন্য আদালতে মামলা করেছিলেন। আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। বর্তমানে তাঁদের নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এই নিয়োগ সম্পন্ন হলে ৩৪টি পদ পূরণ হবে, যার সব কটিই মূলত বিশেষায়িত পদ।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য ডিএনএ ল্যাবরেটরি অধিদপ্তরের জনবল–সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অপরাধীরা সব সময় অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করে; কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তাই এই অধিদপ্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অবহেলা কেন, এমন প্রশ্ন তুলে তিনি এই ল্যাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং ঢাকার বাইরের বিভাগীয় ল্যাবগুলোকে পুরোদমে কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে বৈঠকে আরেকজন সদস্য উল্লেখ করেন, সম্প্রতি যশোরে মাইকিং করে বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হলেও তা ঠেকাতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। এ ধরনের ঘটনা রোধে বাল্যবিবাহবিরোধী প্রচার আরও জোরদার করতে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।