
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা ও হত্যার হুমকির ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সহিংস লড়াই বন্ধ করতে নিজ নিজ দল ও অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এসব কথা জানায়। এর আগে গত রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদল অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘হামলার শিকার গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের এবং তাদের সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনি প্রক্রিয়ায় দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা, গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানসহ পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ জনগণের তথ্য জানার অধিকার খর্ব করে এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির সুযোগ সংকুচিত করে-এর প্রতিকার রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহায়ত্ব ও পুলিশের ব্যর্থতা তুলে ধরে ইফতেখারুজ্জামান আরও উল্লেখ করেন, ক্ষমতার লড়াইকেন্দ্রিক সমস্যার সমাধান কেবল অপরাধীদের জবাবদিহির মাধ্যমে সম্ভব নয়। রাজনৈতিক দলগুলোর আমূল সংস্কার ও আত্মশুদ্ধি ছাড়া মুক্ত গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা জীবন-জীবিকার নিরাপত্তার মতো মৌলিক অধিকারগুলো অর্জন ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে পড়বে।
রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের ভূমিকার সমালোচনা করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘কর্তৃত্বের সহিংস লড়াই বন্ধ এবং নিজ নিজ দল ও অঙ্গসংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মূল রাজনৈতিক দায় কি ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এড়িয়ে যেতে পারে? তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে লোকদেখানো দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে, অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিজেদের সংগঠনে এসব পরিবর্তন নিশ্চিত না করে রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উপলব্ধি করতে হবে, তাঁরা তাঁদের নিজেদের দলের নেতা–কর্মীদের আচরণের কারণে ক্রমাগত অধিকতর জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার চাওয়ার অধিকার সুরক্ষিত থাকতে হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের ব্যর্থতার দায় নির্ধারণ করা জরুরি। রাজনৈতিক পরিচয় যেন কোনোভাবেই অপরাধের সুরক্ষাকবচ না হয় এবং প্রশাসন যেন দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।