এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। ঢাকা। ১২ এপ্রিল
এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। ঢাকা। ১২ এপ্রিল

বিএনপি সুবিধা নিলেও কোনো আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি: নাহিদ ইসলাম

বিএনপিকে সব আন্দোলনের সুবিধাভোগী উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, তারা সব আন্দোলনের সুবিধা নিয়েছে কিন্তু কোনো গণ-আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি কখনোই রক্ষা করেনি।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা হল মিলনায়তনে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৯০ সালের গণ–আন্দোলনের পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল কিন্তু তারা গণ–অভ্যুত্থানের পর হওয়া তিন দলের জোটের রূপরেখা অস্বীকার করেছিল। তারা এখন জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার কথা বলছে। কিন্তু জুলাই সনদকে তারাই কলুষিত করেছে।

সংস্কারের পথে বিএনপিকে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পরও সবাই এই ঐক্যের জায়গায় আছে, বাংলাদেশকে সংস্কারের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে হবে। এই পরিবর্তনের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপি সরকার। সরকার গঠনের পর থেকে দেশ পুরোনো পথে পেছনের দিকে হাঁটছে। কখনো ১৯৭১–এর নাম করে, কখনো জুলাই যোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে বিএনপি সরকার তার নানা কাজের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা আসলে কোনোটাকেই ধারণ করে না।

এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার সময়ে পুলিশ ক্রমান্বয়ে পুলিশ লীগ হয়ে গিয়েছিল। এখন তারা (বিএনপি) হয়তো জাতীয়তাবাদী পুলিশ বাহিনী তৈরি করার চেষ্টায় রয়েছে। না হলে তারা পুলিশ সংস্কারের অধ্যাদেশ কেন বাস্তবায়ন করবে না। শেখ হাসিনার সময় বিচার বিভাগ কীভাবে দলীয়করণ করা হয়েছিল, সেটি দেশের মানুষ দেখেছে। বিচারপতিদের নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে করা অধ্যাদেশ বর্তমান সরকার বাতিল করে দিয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের ফলে দেশে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণকে বিএনপি পুনর্বহাল রেখেছে। এর মাধ্যমে বিএনপি বার্তা দিতে চায়, তারা জুলাই গণ-অভ্যুথানের কথা মুখে বললেও অন্তরে ধারণ করবে না।

বিরোধী দল রাজপথে আসার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে

গণ-আন্দোলন ছাড়া সরকার কোনোভাবেই সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবে না বলে মনে করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিরোধী দল চায় সংসদেই সবকিছুর ফয়সালা হোক। তবে সংসদকে সরকার কুক্ষিগত করতে চাইলে বিরোধী দল রাজপথে আসার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবার রাজপথে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বা অর্ধেক সফল হওয়ার জন্য নামা হবে না, সম্পূর্ণভাবে সফল হওয়ার জন্যই নামা হবে। বিএনপি বা যেকোনো বৈদেশিক পরাশক্তি বাধা হতে চাইলে তাদের পরাজিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেসব সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, সেই জায়গাগুলোই বিএনপি এখন রেখে দিতে চায়। এর মাধ্যমে বিএনপি ঘোষণা দিচ্ছে, তারা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়। সেটি হতে দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ১১ দলের পক্ষে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন। উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

জুলাই শহীদ পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন শহীদ আলিফের বাবা গাজিউর রহমান, শহীদ মেহেরুন নেসার বাবা মোশাররফ হোসেন, আহত জুলাই যোদ্ধা কামরুল আহসান, শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা জামাল হোসেন, জুলাই যোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, শহীদ ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী লাকি বেগম, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া, শহীদ জাবের ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেন এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর নিহত গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা তাজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।