সড়ক অবরোধে গণ অধিকার পরিষদের নেতা–কর্মীরা। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে
সড়ক অবরোধে গণ অধিকার পরিষদের নেতা–কর্মীরা। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে গণ অধিকার পরিষদের সড়ক অবরোধ

নুরুল হকসহ নেতা–কর্মীদের ওপর হামলাকারীদের বিচার, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন গণ অধিকার পরিষদের নেতা–কর্মীরা। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় বিজয় নগরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পল্টন মোড় অবরোধ করে রাখেন তাঁরা।

কর্মসূচিতে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ‘নুরুল হক নুরসহ নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার বিচার অবশ্যই হতে হবে। এ হামলা শুধু নুরুল হক নুরের ওপর নয়, এটা গণ–অভ্যুত্থানের ওপর হামলা। সুতরাং হামলার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে।’

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে ‘ভারতের দল’ আখ্যায়িত করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘আপার (শেখ হাসিনা) মতো জাপাকেও ভারতে পাঠাতে হবে। মেনন, হাসানুল হক ইনুরা গ্রেপ্তার হলে জি এম কাদের কেন গ্রেপ্তার হয় না?’

জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এইবার কিন্তু জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানানোর কোনো সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট হিসেবে নিষিদ্ধ হয়েছে, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকেও নিষিদ্ধ করতে হবে।’

বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধে গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবদুজ জাহেরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন মুখপাত্র ফারুক হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান, সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, মাহফুজুর রহমান খান, রবিউল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঈসমাইল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল প্রমুখ।

গত ২৯ আগস্ট জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের মারধরে নুরুল হক মাথায় আঘাত পান, তাঁর চোয়াল ও নাক ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। সেদিন রাতেই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ১ সেপ্টেম্বর তাঁকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নুরুল হকের স্ত্রী মারিয়া নুর, দলের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা নুরুল হককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে নির্দেশ দেন।