‘জুলাই-উত্তর রাজনীতি: গতি ও গত্যন্তর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। আর সি মজুমদার মিলনায়তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ১৮ জুলাই ২০২৬
‘জুলাই-উত্তর রাজনীতি: গতি ও গত্যন্তর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। আর সি মজুমদার মিলনায়তন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ১৮ জুলাই ২০২৬

আলোচনা সভায় বক্তারা

আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করতে হবে যুক্তি দিয়ে, গালাগালি করে নয়

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করতে হবে যুক্তি, চিন্তা ও রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে, গালাগালি করে নয়। আর অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে ইসলামপন্থী দলগুলোর ফিরে আসাও গণতান্ত্রিক পরিবেশে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘জুলাই-উত্তর রাজনীতি: গতি ও গত্যন্তর’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘সেন্টার ফর বেঙ্গল স্টাডিজ’।

আলোচনা সভায় আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘আমি বিএনপির গত ১৫ বছরের আন্দোলনের চারটি প্রধান দাবি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের দেশে ফেরা, নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন। এই চারটি দাবিই আজ পূরণ হয়েছে...জামায়াতের অবস্থাও ছিল ভিন্ন। দলটি নিষিদ্ধ ছিল, অফিস তালাবদ্ধ ছিল, নেতারা আত্মগোপনে ছিলেন, কেউ কারাগারে, কেউ মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায়।’

জুলাই তাদের জন্য বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে উল্লেখ করে মজিবুর রহমান বলেন, জুলাইয়ের পর এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সংসদে তৃতীয় বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এটিও জুলাইয়ের একটি অর্জন।

আওয়ামী লীগকে মোকাবিলার প্রসঙ্গে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি মনে করি, আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করতে হবে যুক্তি, চিন্তা ও রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে, গালাগালি দিয়ে নয়।’

জুলাই-উত্তর রাজনীতির তিনটি বড় বাস্তবতা তুলে ধরে মজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রথমত, জুলাই–শক্তির মধ্যে অনৈক্য; দ্বিতীয়ত, বিজয়ীদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব; তৃতীয়ত, পরাজিতদের ফিরে আসার আস্ফালন।’

‘রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের ফেরা স্বাভাবিক’

আলোচনা সভায় এনসিপি যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে মধ্যপন্থার রাজনীতি ফিরে এসেছে। ইসলামপন্থী দলগুলোও রাজনৈতিক পরিসরে ফিরে এসেছে। এটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্বাভাবিক। তাদের রাজনীতির বিরোধিতা করা যেতে পারে, কিন্তু তাদের রাজনীতি করার অধিকার অস্বীকার করা যায় না।’

সারোয়ার তুষার আরও বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের কাছে একটি জীবন্ত বাস্তবতা। কারণ, আমরা এখনো এমন এক পর্যায়ে আছি, যেখানে সফল গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র ও বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চলছে এবং আমাদের সেই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে একটি অসম লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’

জুলাই সনদকে একটি গণতান্ত্রিক দলিল উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, এতে ফ্যাসিবাদী বা তথাকথিত উগ্র ডানপন্থী কোনো উপাদান নেই। পৃথিবীর উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর মানদণ্ডে এটি একটি গণতান্ত্রিক নথি।

‘৫ আগস্ট রাতেই আন্দোলন হাইজ্যাক’

আলোচনা সভায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের স্মৃতিচারণা করে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের পর রাতেই সেই আন্দোলনকে হাইজ্যাক করা হলো।’

আজিজুল হক বলেন, ‘আমি হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রিতদের একজন ছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখি, সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। যাদের রক্তের বিনিময়ে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, তাদের কোনো প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব সেখানে নেই। বরং আগে থেকেই পরিকল্পিত একটি নতুন ব্যবস্থা উপস্থাপন করা হয়েছে।’

ওই দিনই জুলাই আন্দোলন ও শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে অভিযোগ করে হেফাজতে ইসলামের এই নেতা বলেন, ‘এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এল। আমরা ইউনূস সাহেবকে (অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা) অনেক আশাভরসা নিয়ে দায়িত্বে বসিয়েছিলাম। কিন্তু ফলাফল হলো “যেই লাউ সেই কদু”। তিনি সেই হিন্দুস্তানি দালাল চক্রের প্রভাব থেকে বের হতে পারেননি।’