মাসুদুর রহমান
মাসুদুর রহমান

মালয়েশিয়ায় জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাজা খাটা আসামি দেশে ফিরে রিমান্ডে

মালয়েশিয়ায় জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাজা খেটেছেন মাসুদুর রহমান। সাজা শেষে গতকাল বুধবার বাংলাদেশে ফেরত পাঠালে বিমানবন্দর পুলিশ বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আজ বৃহস্পতিবার তাঁর দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মাসুদুর রহমান (৩০) ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার কাঁঠালকান্দি এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে।

আজ আসামিকে আদালতে হাজির করে বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুনুর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘আসামি মালয়েশিয়ায় আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তাঁর কারণে আমাদের দেশের শ্রমবাজারে সমস্যা হয়েছে। তিনি জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ওই দেশে জেল খেটেছেন। মালয়েশিয়ায় তাঁর কার্যক্রম সম্পর্কে জানার জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইছি।’

পরে বিচারক আসামির উদ্দেশে বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কী কাজ করতেন?’ আসামি বলেন, ‘কোম্পানির কাজ করতাম।’ মালয়েশিয়ায় কারও সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না জানতে চান বিচারক। তখন আসামি বলেন, ‘না, না। আমি শুধু (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে) পোস্ট করতাম।’

‘কেন পোস্ট করতেন’—বিচারকের এমন প্রশ্নে আসামি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। পরে বিচারক দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি বাংলাদেশের কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত কি না; কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন কি না; জঙ্গি কার্যক্রমের অর্থের জোগানদাতা কে বা কারা; বাংলাদেশে তাঁদের অস্তিত্ব আছে কি না এবং আন্তর্জাতিক নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত আছেন কি না, তা জানার জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের প্রয়োজন।

এ–সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) বলা হয়েছে, আসামি মালয়েশিয়া অবস্থানকালে হামাস, তালেবান এবং আল-কায়েদার বিভিন্ন ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এ ধরনের পোস্ট দেওয়ায় জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সন্দেহে মালয়েশিয়ার পুলিশ তাঁকে আটক করে। আসামিকে ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) মালয়েশিয়ার পুলিশ বাংলাদেশে প্রেরণ করে। বিমানবন্দর থানা–পুলিশ তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

জিডিতে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে মালয়েশিয়া অবস্থানকালে বিভিন্ন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন—হামাস, তালেবান এবং আল-কায়েদার বিভিন্ন ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা জানান। আসামির যেকোনো সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলা করার সম্ভাবনা রয়েছে। মালয়েশিয়ার আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন। সাজা শেষে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। সে জন্য আসামিকে জিডি মূলে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।