
শাসকগোষ্ঠী জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা স্মরণসভার বিষয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব রূপ দিতে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তি ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় দলের নেতারা এ কথা বলেন।
আলোচনা সভায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং জুলাইয়ের ঘটনাগুলোয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানানো হয়।
সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচার, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণবিস্ফোরণ। এ গণ–অভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল দেশের ছাত্র-যুবক, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। সেই গণ–আন্দোলনে প্রকাশিত মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধামাচাপা দিয়ে কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী দেশকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এই কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে।
গণ–অভ্যুত্থানে মানুষের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি বলে মনে করেন সিপিবি সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, বাজারমুখী নীতি, যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের কাছে জাতীয় সম্পদ ও স্বার্থ বিপন্ন করা, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী নানা সিদ্ধান্তের কারণে মানুষের জীবন আজ ক্রমেই আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। এটি সমগ্র জনগণের সংগ্রামের ইতিহাস। এ ইতিহাসকে যারা দলীয় সংকীর্ণতা, রাজনৈতিক বিভাজন বা ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এমদাদুল হক মিল্লাত ও মনোজ দাশ। সভা সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর মঈন।