সংসদ সদস্য রফিকুল হক জামাল
সংসদ সদস্য রফিকুল হক জামাল

স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে সংসদে দাবি বিএনপির সংসদ সদস্যের

প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নাম না নিয়ে দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি সংসদে তুলেছেন ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম (জামাল)। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা কোনো দলের এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার থাকা উচিত নয়।

সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধের দাবি তোলেন রফিকুল ইসলাম।

জামায়াতের প্রার্থীকে হারিয়ে সংসদে আসা রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, নামের পরে ইসলাম থাকলেই ইসলাম হয় না। যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে, গত নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আমরা দেখেছি, বিড়ির সুখটানের মধ্য দিয়েও তারা বলেছিল সব পাপ মওকুফ হয়ে যাবে।’

ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ফয়জুল হক নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, ‘বিড়িতে সুখটানের মধ্যেও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন।’ ওই বক্তব্যের জেরে দলটি তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে যারা ইসলামের নামে রাজনীতি করছে, এই দলটি ১৯৭১ সালে এ দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল। যে দলটি বাংলাদেশের সৃষ্টির বিরুদ্ধে ছিল, আমি মহান সংসদে দাবি করব, তারা বাংলাদেশের রাজনীতি করতে পারবে না, তাদের রাজনীতিও ফ্যাসিস্টদের মতো নিষিদ্ধ করা হোক।’

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতনের কয়েক দিন আগে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে অংশ নেয় একসময়ের জোটবদ্ধ দল বিএনপি ও জামায়াত। নির্বাচনী প্রচারে বিএনপির নেতারা ১৯৭১ সালে জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান সামনে এনেছিলেন।

আজ সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ মসজিদে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক কথা বলতে চাই। আমার দেশে মসজিদের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। মসজিদ আল্লাহর ঘর। মসজিদে নামাজ পড়বে, মসজিদে কোরআন শরিফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদে গিয়ে রাজনীতি করে।’

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে এ কথা বলার পর রেজা আহমেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘আমি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব আইন পাস করার জন্য, যাতে কোনো মসজিদ বা মাদ্রাসায় রাজনৈতিক মিটিং করা না যায়। আমরা যেমন ফুটবল মাঠ, হাইস্কুল বা হলরুমে কর্মিসভা, জনসভা ও মিটিং করি, তাদেরও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তারা মসজিদে মিটিং করতে পারবে না। আমার সঙ্গে সবাই একমত কি না জানি না।’