জামায়াতে ইসলামীর আমিরের চিঠি নিয়ে প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের চিঠি নিয়ে প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

আমিরের উপদেষ্টাকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিতে পাঠানো চিঠির ব্যাখ্যা দিল জামায়াত

দলের আমিরের উপদেষ্টাকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের চিঠি দেওয়া নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে এর একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তাতে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে চিঠিতে মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত অংশটি যুক্ত করেছিলেন। বিষয়টি নজরে আসার পর মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের উপদেষ্টার পদায়ন চান বিরোধীদলীয় নেতা’ প্রথম আলোয় আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে নানা মহলে আলোচনা ওঠার পর সন্ধ্যায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বিবৃতিটি দলের ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতি দেওয়ার ব্যাখ্যায় বলা হয়, সম্প্রতি গণমাধ্যমে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের দপ্তর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠি-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে জনমনে কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি স্পষ্ট করতে এই বিবৃতি দেওয়া হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগের। সে সময় অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দেশের পররাষ্ট্র বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কিছু অবস্থান স্পষ্ট করার স্বার্থে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠানোর বিষয়ে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন।

‘কিন্তু তিনি আমির কর্তৃক নির্দেশিত বিষয়াবলির বাইরে কিছু বিষয় যুক্ত করে চিঠিটি মন্ত্রণালয়ে পাঠান। বিশেষ করে চিঠিতে উল্লিখিত মন্ত্রীর পদমর্যাদা-সংক্রান্ত অংশটি জামায়াত আমিরের নির্দেশনায় ছিল না,’ বলা হয় বিবৃতিতে।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের দপ্তর থেকে এই চিঠি গত ২২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। জাতীয় সংসদের প্যাডে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে লেখা শফিকুর রহমানের স্বাক্ষরযুক্ত এই চিঠিতে মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় মন্ত্রণালয়ে পদায়নের অনুরোধ জানিয়ে লেখা হয়েছিল, ওই পদায়নের মাধ্যমে বিরোধীদলীয়দের ‘পররাষ্ট্রনীতিসমূহ’ সরকারের কাছে উপস্থাপন, পর্যালোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ‘ভারসাম্য’ রক্ষা করা যাবে।

প্রথম আলো সেই চিঠির অনুলিপি নিয়েই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এমন চিঠি দেখে পেশাদার কূটনীতিকেরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, দেশে এমন পদায়ন আগে কখনো হয়নি। বিদেশেও এমন কথা শোনা যায়নি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে বলেন, চিঠির বিষয়টি দলের দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াত আমির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মাহমুদুল হাসানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২ মার্চ তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা-১৪ আসনে দলীয় সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে (আরমান) বিরোধীদলীয় নেতার নতুন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

‘জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হলে জামায়াত তা দ্রুত সংশোধনের নীতিতে বিশ্বাস করে। আলোচ্য ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে,’ বলা হয় বিবৃতিতে।