রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ১ জুন
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ১ জুন

পল্লবীর শিশুটির হত্যাকাণ্ডের বিচারে প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদার শতভাগ বাস্তবায়ন চান বিরোধী দলীয় নেতা

পল্লবীর শিশুটির হত্যার বিচার নিয়ে কোনো তামাশা দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপের কারণে বিচারের প্রতি মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, এই সংস্কৃতি থেকে বিচারবিভাগকে বের হয়ে আসতে হবে।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিশুর বাবাকে দেখতে যান। পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি সেখানে যান।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বাসায় গিয়ে আশ্বস্ত করেছেন ১৫ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করবেন। আমরা দেখতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর কমপক্ষে এই ওয়াদাটা শতভাগ বাস্তবায়ন হোক। এবং এটি যদি বাস্তবায়ন হয়, সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ খুশি হবে, ওনার জন্য দোয়া করবে। আমরা ওনার জন্য দোয়া করতে চাই, দেখতে চাই ১৫ দিনে এই বিচার সম্পন্ন হবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি পার্সোনালি বিশ্বাস করি, যদি বিচার বিভাগ সঠিকভাবে এই কাজ করে, সিরিয়াসলি করে, তাহলে ১৫ দিন মানে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে এটি সম্ভব। অন্তত বিচারিক আদালতের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব। তারপরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায়কে কার্যকর করার জন্য হাইকোর্টে পাঠাতে হবে। ওইটাও যদি সিনসিয়ারিটি থাকে উদাহরণ সৃষ্টির জন্য, ওইটাও এক মাসের মধ্যে হয়তবা সম্পন্ন করা সম্ভব।’

বিচারের নামে অবিচার, দীর্ঘসূত্রতা ও তামাশার কারণে দেশে খুন, ধর্ষণের মতো অপরাধ বন্ধ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপের কারণে বিচারের প্রতি মানুষের যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, এই সংস্কৃতি থেকে বিচারবিভাগকে বের হয়ে আসতে হবে।

বিচারকে দীর্ঘায়িত করতে নানা চক্রান্ত হতে পারে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এখন ধানাই–পানাই করার জন্য আরও কারও নাম বলতে পারে। বিচারকে দীর্ঘসূত্র করার জন্য নাম বলতে পারে। এটি একটা চক্রান্ত। কোনো শয়তান হয়তো এগুলো শিখিয়েও দিতে পারে।’

আত্মস্বীকৃত ধর্ষক ও খুনিদের পক্ষে না দাঁড়াতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

এ সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।