বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে পরওয়ারের বৈঠক, এ অভিযোগ রাশেদকে প্রমাণের চ্যালেঞ্জ জামায়াতের

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার গোপন বৈঠক হয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। এর জবাবে জামায়াত বলছে, যিনি বা যাঁরা এমন অসত্য তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাঁদের মানসিক ও রাজনৈতিক সুস্থতা নিয়ে তাদের সন্দেহ রয়েছে। পাশাপাশি এ অভিযোগ প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াত।

বিবৃতিতে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সমুন্নত রেখে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। কিন্তু সম্প্রতি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জামায়াতের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

বিবৃতিতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দেশের গণমাধ্যমগুলোকে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের সত্যতা ও তথ্যের সঠিকতা যাচাইপূর্বক প্রমাণ সাপেক্ষে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে মিথ্যা প্রচার ও প্রোপাগান্ডার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক থেকে বিভ্রান্ত না হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।

যিনি বা যাঁরা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলকে জড়িয়ে ‘অসত্য’ তথ্য দিয়ে সংবাদ ছড়িয়েছেন, তা প্রমাণের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, তাঁদের উচিত অভিযোগের সত্যতা জাতির সামনে প্রকাশ করা। অসত্য তথ্য দিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলকে জাতির কাছে বিতর্কিত করার হীন ও নোংরা প্রয়াস সফল হবে না।

গতকাল সোমবার নিজের ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বারিধারার একটি বাড়িতে ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াত নেতা এ টি এম মাছুমসহ মোট তিনজন।

রাশেদ আরও লিখেন, ‘যারা সারা দিন ভারতের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখে, তারা কী কারণে, কোন স্বার্থে ভারতীয় এই গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে? কোনো ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করা, আর ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক হওয়া এক জিনিস নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী লিখেন, ‘মিয়া গোলাম পরওয়ার যদি নৈতিক রাজনীতি করে থাকেন, আশা করি তিনি গোপন এই বৈঠকের বিষয়টি খোলাসা করবেন। অন্যথায় ধরেই নেওয়া হবে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে জামায়াত। এই ষড়যন্ত্রের প্রথম ফাঁদ হলো, আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ছক!’