জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী

সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি, সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে শূন্য পদ ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। শূন্য পদ পূরণের জন্য ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মচারীদের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সবশেষ প্রকাশিত তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির (প্রথম-নবম গ্রেড) শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণির (১০ম-১২তম গ্রেড) শূন্য পদ ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। ১৩তম থেকে ১৬তম গ্রেডে শূন্য পদ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি। ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডে শূন্য পদ ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি। অন্যান্য পদে ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য পদ রয়েছে।

৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ কর্মচারী নিয়োগ’–এর বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিয়োগের সবশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য পাঠানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছরে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়। ৩৯ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। আর ৫৬৪ কর্মকর্তাকে ওএসডি করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের সময় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি–দলীয়করণের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাওয়ার পর আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বলেন, মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক–সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যাতে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত না হন, সেটাও নিশ্চিত করা হবে। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে।

নূরুল ইসলামের আরেক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বলেন, বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক। ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান কোটা। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ১ শতাংশ। শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে।