‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান—ন্যায়বিচার, মেধার মূল্যায়ন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান—ন্যায়বিচার, মেধার মূল্যায়ন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

ক্ষমতার দম্ভে কেউ যাতে দিশাহারা হয়ে না যায়: জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ক্ষমতার দম্ভে কেউ যাতে দিশাহারা হয়ে না যায়। আজ যারা সরকারি দল বা বিরোধী দলে আছে, এটি যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে।

শফিকুর রহমান বলেন, এমনও হতে পারে, এখন যারা সরকারি বা বিরোধী দলে আছে, আগামী দিনে হয়তো সংসদে বসারও জায়গা পাবে না। অপকর্মের কারণে যে সরকারি দল বিদায় নিয়েছে, তাদের বিরোধী দলও এখন নেই।

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির এ কথা বলেন। ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান—ন্যায়বিচার, মেধার মূল্যায়ন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)।

অনুষ্ঠানে ভয়ংকর অপরাধীরা পরিণতি থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে যায় উল্লেখ করে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে পালিয়ে যাওয়ারা উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। মাঝে মাঝেই গল্প শোনায়, এই বোধ হয় এসে গেলাম। যে মানুষ ডেইলি একবার বলে আমি আত্মহত্যা করব, ও জীবনেও আত্মহত্যা করে না।’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এত সাহস, তাহলে গেলেন কেন? ওনার ভাবখানা এমন যে আমি মক্কা যেতে চেয়েছিলাম, আমারে মস্কোতে নিয়ে গেছে। এখন উনি বলেন, কই আমি তো গোপালগঞ্জ যাইতে চেয়েছিলাম, আমাকে এখানে কোথায় নিয়ে আসছে। অথচ এখন সবকিছু বের হয়ে আসছে।’

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে ভারতের ভূমিকারও সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘পাশের দেশ দাবি করে তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু। তবে বন্ধু হয়ে সবচেয়ে বড় খুনিকে তাদের দেশে জায়গা দিয়েছে। শুধু জায়গা দেয়নি, কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করে তাঁকে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল কোয়ালিশনের (ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া) সামনে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার আগে ও পরে মেধাতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের কথা বলেছিলেন। সেই অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। এ সময় সব জায়গায় দলীয়করণ বন্ধের দাবি জানান তিনি।

ফ্যাসিবাদকে ‘ভাইরাস’ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই ভাইরাস যাকেই পাবে, তাকে ফ্যাসিবাদী বানিয়ে ছাড়বে।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার যেসব কাজ, অপকর্ম করার কারণে আমরা তাদের ফ্যাসিবাদী বলছি, আজকেও যদি কেউ একই কাজ করেন, নিঃসন্দেহে তারাও ফ্যাসিবাদী। যে কাজটা অন্যের ছেলে করলে আমি বলব সন্ত্রাসী, একই কাজ আমার ছেলে করলে তাকেও বলতে হবে সে–ও সন্ত্রাসী।’

অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলসহ জামায়াত ও এনডিএফের নেতারা বক্তব্য দেন।