
ঢাকা–৭ সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমানের ৪৬ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর ৬ কোটি টাকার দায়ও আছে। এই প্রার্থী দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর (আংশিক) ও কোতোয়ালি (আংশিক) থানা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে লড়তে যাচ্ছেন হামিদুর রহমান। সংসদ নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণ এবারই প্রথম।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী হচ্ছেন, বিধি অনুযায়ী তাঁরা নিজেদের আয়-ব্যয় ও সম্পদের তথ্য হলফনামা আকারে জমা দিয়েছেন মনোনয়নপত্রের সঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশিত হয়েছে।
হামিদুর রহমান হলফনামায় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার উল্লেখ করেননি, উল্লেখ করেননি বয়সও। তাঁর নামে কোনো মামলা না থাকার কথাও জানিয়েছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, হামিদুর রহমানের বার্ষিক আয় ৪২ লাখ ৬ হাজার ২৩৫ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক স্থান বা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া আসে ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৮ টাকা, ব্যবসা থেকে আসে ৯ লাখ ১৮ হাজার ৪৩৪ টাকা। অন্যান্য উৎস থেকে তিনি ৬২ লাখ ১৩ হাজার ৭৯১ টাকা আয় করেন।
হলফনামায় ৩ কোটি ২১ লাখ ৬০ হাজার ৯৮০ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছেন হামিদুর রহমান। এর মধ্যে নগদ আছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ২০ টাকা, ব্যাংকে জমা আছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৭ টাকা, বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ার আছে ৬ লাখ টাকার, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত আছে ৩০ লাখ টাকার, গাড়ি আছে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার।
বিএনপির এই প্রার্থী তাঁর স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৫৫ হাজার ১৮০ টাকা, বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪৩ কোটি ৮০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এই সম্পদের মধ্যে আছে ২ কোটি ১৮ লাখ ৯১ হাজার ২১০ টাকা মূল্যের ৪ হাজার ৭৪৫ শতাংশ কৃষিজমি, ৫১ লাখ টাকা মূল্যের ২৮ শতাংশ অকৃষিজমি এবং ৭ কোটি ৭১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৭০ টাকা মূল্যের ৩৫ হাজার ৯৫৯ বর্গফুটের ভবন।
দুটি আগ্নেয়াস্ত্রের কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন হামিদুর রহমান। এর মধ্যে আছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার একটি এনপিবি পিস্তল এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি ১২ বোর শটগান।
তাঁর দায়ের মধ্যে আছে গাড়ি কিনতে পূবালী ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ, ব্যবসার জন্য যমুনা, ডাচ্–বাংলা, সিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি থেকে নেওয়া ঋণ। এর বাইরে প্রবাসী আত্মীয়ের কাছেও তাঁর ঋণ আছে। সব মিলিয়ে দায়ের পরিমাণ ৬ কোটি ৪১ লাখ ৭১ হাজার ৬৩৬ টাকা।
হামিদুর রহমানের স্ত্রী শামীমা পারভীনের পেশাও ‘ব্যবসা’। তাঁর নামে অস্থাবর সম্পদ আছে ৯৭ লাখ ৭৬ হাজার ৬৫৩ টাকার। এর মধ্যে নগদ আছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা আছে ২৯ লাখ ২৪ হাজার ৮৮৫ টাকা; বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ার আছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত আছে ৬৩ লাখ ৫১ হাজার ৭৬৮ টাকার আর ইলেকট্রনিক পণ্য আছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার। স্ত্রীর পাশাপাশি তাঁর ছেলে শাফি ইসমাম ইফতির নামেও ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের কথা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। হামিদুর রহমানের ছেলের নামে ঢাকার পূর্বাচলে ১২ লাখ টাকার (অর্জনকালীন মূল্য) ৮ দশমিক ২৫ শতাংশের আবাসিক প্লট আছে। এর বর্তমান মূল্য ৫০ লাখ টাকা।
হামিদুর রহমান সর্বশেষ করবর্ষে ৪২ লাখ ৬ হাজার ২৩৬ টাকা আয়ের বিপরীতে ৯ লাখ ৯ হাজার ৫৫৮ টাকা কর দেওয়ার কথা হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি তাঁর মোট সম্পদের মূল্যমান দেখিয়েছেন ৭ কোটি ৬৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫১ টাকা।
হামিদুর রহমানের স্ত্রী ৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আয়ের বিপরীতে কর দিয়েছেন ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, সম্পদ দেখিয়েছেন ৬৭ লাখ ১৩ হাজার ৯০ টাকার। আর ছেলে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা আয়ের বিপরীতে ১৩ হাজার টাকা কর দিয়েছেন, সম্পদ দেখিয়েছেন ৬০ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ টাকার।